প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের (আইএবি) স্বীকৃতি পেয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) স্থাপত্য বিভাগ। আইএবির স্থাপত্য শিক্ষা বোর্ডের সুপারিশের পর প্রতিষ্ঠানটির ২৬তম নির্বাহী পরিষদ রুয়েটের স্থাপত্য শিক্ষা কার্যক্রমকে পাঁচ বছরের জন্য শর্তহীন অ্যাক্রেডিটেশন দিয়েছে। এ স্বীকৃতি গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
গত ১৫ জুলাই আইএবির পক্ষ থেকে রুয়েটের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, রুয়েটের স্থাপত্য শিক্ষা কার্যক্রম আইএবির স্থাপত্য শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে। এর প্রেক্ষিতে বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে অ্যাক্রেডিটেশনের সুপারিশ করে। পরে আইএবির ২৬তম নির্বাহী পরিষদ সেই সুপারিশ অনুমোদন দেয়।
রুয়েটের স্থাপত্য বিভাগ ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার এক যুগেরও বেশি সময় পর আইএবির এই স্বীকৃতি পাওয়াকে বিভাগের অ্যাকাডেমিক ও পেশাগত অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এ স্বীকৃতির ফলে রুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক শিক্ষার সাথে পেশাগত স্থাপত্যচর্চার সংযোগ আরো সুদৃঢ় হবে।
বাংলাদেশে পেশাগতভাবে স্থাপত্যচর্চা ও ভবনের নকশা বা স্থাপত্য পরিকল্পনায় স্থপতি হিসেবে স্বাক্ষর করার ক্ষেত্রে আইএবির সদস্যপদ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আইএবি অ্যাক্রেডিটেশনপ্রাপ্ত কার্যক্রমের আওতায় ডিগ্রি অর্জনকারী রুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে আইএবির সদস্যপদ নেয়ার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে তারা দেশে পেশাগত স্থাপত্যচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাগত কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া আইএবির মাধ্যমে এশিয়ার স্থপতিদের আঞ্চলিক সংগঠন আর্ক্যাশিয়া (ARCASIA) ও আন্তর্জাতিক পরিসরের বিভিন্ন স্থাপত্য সংগঠন ও কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। ফলে রুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ-বিদেশে পেশাগত পরিসর আরো বিস্তৃত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দফতরের উপ-পরিচালক ও স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জেড এইচ এম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘দীর্ঘ এক যুগ পর রুয়েটের স্থাপত্য বিভাগ আইএবির অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে আনন্দ ও গৌরবের বিষয়। এর মাধ্যমে বিভাগের শিক্ষার্থীরা পেশাগত ক্ষেত্রে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো বিস্তৃত সুযোগ-সুবিধা পাবে। এটি শুধু স্থাপত্য বিভাগের নয়, পুরো রুয়েটের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এই স্বীকৃতি বিভাগটির ভবিষ্যৎ পথচলাকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা করি।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থাপত্য শিক্ষায় অ্যাক্রেডিটেশন শুধু একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়; এটি শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতিকে পেশাগত মানদণ্ডের সাথে যুক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এর ফলে রুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের পেশাগত প্রস্তুতি, কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ ও ভবিষ্যৎ স্থাপত্যচর্চার সুযোগ আরো সুগম হবে।
জানা গেছে, দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এর আগে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য শিক্ষা কার্যক্রম আইএবির অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো রুয়েটের স্থাপত্য বিভাগ।
রুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইএবির এ স্বীকৃতি বিভাগের অ্যাকাডেমিক মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও দেশ-বিদেশে স্থাপত্যচর্চার সুযোগ সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একইসাথে এ অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে রুয়েটের স্থাপত্য শিক্ষার অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।



