ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থীরা পেলেন ডাকসুর অদম্য মেধাবৃত্তির অর্থ

বক্তারা বলেন, মেধা, অধ্যবসায় ও প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে চলা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো শুধু আর্থিক সহায়তার বিষয় নয়; এটি তাদের শিক্ষা, অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার বৃহত্তর দায়িত্বের অংশ। ‘ডাকসু অদম্য মেধাবৃত্তি’ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সহায়তা ও তাদের চলার পথ সহজ করতে ‘ডাকসু অদম্য মেধাবৃত্তি ২০২৬’ প্রদান করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির নগদ অর্থ ও সনদ তুলে দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ ও সনদ তুলে দেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্য সব নাগরিকের মতো তারাও যেন রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র এখনো প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি যথাযথভাবে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকার অর্থে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে ডাকসু নানা উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ডাকসুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি প্রতিবন্ধিতা সহায়তা সেল গঠন করেছে, যা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি তাদের শিক্ষাজীবনের সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম এ বাকি। তিনি এ ধরনের উদ্যোগ নেয়ায় ডাকসুকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষ সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, একটি কল্যাণরাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সব ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন দেখা যায় না। প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার ও প্রয়োজন পূরণে ডাকসু ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মির্জা রাইসুল ইসলাম বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য ডাকসুর ভিপিসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

গত এক বছরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্যোগ তুলে ধরে মির্জা রাইসুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, অধিকার, সুযোগ-সুবিধা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে ডাকসু কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ডাকসুর বর্তমান সদস্যরা রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পেলে প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হুসেন, ক্যারিয়ারবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে সৈকত, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, কার্যনির্বাহী সদস্য মেহতাহুল হুসেন আল মারুফসহ ডাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, মেধা, অধ্যবসায় ও প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে চলা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো শুধু আর্থিক সহায়তার বিষয় নয়; এটি তাদের শিক্ষা, অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার বৃহত্তর দায়িত্বের অংশ। ‘ডাকসু অদম্য মেধাবৃত্তি’ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির।