দুই বছর পূর্ণ হলেই বদলির আবেদন করতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

একজন শিক্ষককে প্রথম যোগদানের পর অন্তত দুই বছর একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে হবে। একবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর পুনরায় বদলির আবেদন করতে চাইলে সেখানেও ন্যূনতম দুই বছর কর্মকাল পূর্ণ করতে হবে। একজন শিক্ষক তার সমগ্র চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়
শিক্ষা মন্ত্রণালয় |ইন্টারনেট

দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে সংশোধিত নীতিমালা জারি করেছে সরকার।

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম যোগদানের পর চাকরির বয়স দুই বছর পূর্ণ হলেই শিক্ষকরা বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়া সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে।

আজ বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এই নীতিমালা ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬ (সংশোধিত)’ নামে অভিহিত হবে।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নীতিমালা জারির তারিখ থেকেই এটি কার্যকর হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত সব শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান, প্রদর্শক এবং ট্রেড ইন্সট্রাক্টররা বদলির সুযোগ পাবেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, একজন শিক্ষককে প্রথম যোগদানের পর অন্তত দুই বছর একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে হবে। একবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর পুনরায় বদলির আবেদন করতে চাইলে সেখানেও ন্যূনতম দুই বছর কর্মকাল পূর্ণ করতে হবে। একজন শিক্ষক তার সমগ্র চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া :

নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করবে। এরপর শিক্ষকদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হবে। একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ইনডেক্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হবে। একই সাথে তার এমপিও এবং জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, একটি পদের জন্য একাধিক আবেদনকারী থাকলে অগ্রাধিকার নির্ধারণে কিছু সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে নারী শিক্ষক, বর্তমান কর্মস্থল থেকে দূরত্বের পরিমাপ, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল জেলা এবং জ্যেষ্ঠতাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। দূরত্ব পরিমাপের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুসৃত মডেল ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে সংশোধিত নীতিমালায়।

এতে বলা হয়, আবেদনকারী শিক্ষক তার নিজ জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা ও কর্মস্থল জেলায় বদলির সুযোগ পাবেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ দু’জন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে, একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষককে এক বছরে বদলি করা হবে না। বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে এবং পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।

কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, সাময়িক বরখাস্ত বা স্টপ পেমেন্ট আদেশ থাকলে তিনি বদলির অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) খুব শিগগিরই সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই বদলি কার্যক্রম শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।

এই সংশোধিত নীতিমালার ফলে বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় আরো গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।