মাহাথির মোহাম্মদকে জন্মশতবার্ষিকীর শুভেচ্ছা ও ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ ড. ইউনূসের

জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত ‘নিক্কেই ফোরাম : ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনের সাইডলাইনে ইম্পেরিয়াল হোটেলে এক ঘনিষ্ঠ বৈঠকে দুই নেতার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ করা হয়।

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া
মাহাথির মোহাম্মদকে জন্মশতবার্ষিকীর শুভেচ্ছা ও ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস
মাহাথির মোহাম্মদকে জন্মশতবার্ষিকীর শুভেচ্ছা ও ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস |সংগৃহীত

আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে তার শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আগামী ১০ জুলাই মাহাথির মোহাম্মদ ১০০ বছরে পদার্পণ করবেন।

জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত ‘নিক্কেই ফোরাম : ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনের সাইডলাইনে ইম্পেরিয়াল হোটেলে এক ঘনিষ্ঠ বৈঠকে দুই নেতার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ করা হয়। সেখানে ইউনূস বলেন, ‘আপনাকে আগাম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই।’

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিও পোস্ট করে মাহাথির মোহাম্মদ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী ওই বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশের আসিয়ান সদস্যপদ লাভের আগ্রহ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। ইউনূস বলেন, ‘আমরা আসিয়ানে সদস্যপদ পেতে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাই।’

তিনি জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই আসিয়ানের ‘সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার জন্য আবেদন করেছে।

এছাড়াও তিনি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশী কর্মীদের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ‘বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে মালয়েশিয়ার নাম পরিচিত। কারণ, বহু মানুষ জীবিকার সন্ধানে সেখানে যান,’ বলেন অধ্যাপক ইউনূস।

জবাবে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ‘অনেক বাংলাদেশী মালয়েশিয়ায় ব্যবসা শুরু করেছেন এবং সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন।’

তিনি তার দেশের ‘লুক ইস্ট’ নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘এই নীতির মাধ্যমে মালয়েশিয়া উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন অর্জন করেছে। বাংলাদেশও চাইলে এ ধরনের নীতি গ্রহণ করতে পারে।’

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মাহাথির মোহাম্মদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। মাহাথির জানান, তার ওপর চিকিৎসকদের কিছু ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে শারীরিক অবস্থার অনুমতি পেলে তিনি বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলে জানিয়েছেন।