দক্ষ জনশক্তি রফতানি বাড়াতে ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইতালির সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একইসাথে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নগর ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইতালিতে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশী বসবাস করছেন। তাদের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরো দক্ষ কর্মীকে বৈধ পথে ইতালিতে পাঠানোর সুযোগ তৈরিতে ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি (বৈঠকে) গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইতালীয় ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রশিক্ষক তৈরির পাশাপাশি ইতালিতে যেতে আগ্রহী দক্ষ কর্মীদের ভাষাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা ঠেকাতে সচেতনতা
অবৈধ অভিবাসন রোধেও দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, অবৈধ অভিবাসন বন্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা গেলে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা কমানো সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
খুলনা-মিলান সহযোগিতা
বৈঠকে নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। মিলান সিটির সাথে খুলনা সিটি করপোরেশনের খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য অপচয় রোধে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এছাড়া বাংলাদেশের স্থপতিদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, দু’দেশের বাণিজ্য, রেমিট্যান্স এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে নতুন নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে দু’দেশের একসাথে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ-ইতালি সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো: শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



