উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিতে কাতারের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার বার্তা নিয়ে দোহায় কাতারের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির।
রোববার (২৯ মার্চ) সরকারি সফরে কাতারের রাজধানী দোহায় গিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন হুমায়ূন কবির। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে একটি সংহতিপত্র হস্তান্তর করেন তিনি।
সংহতিপত্রে প্রধানমন্ত্রী উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কাতারের নেতৃত্ব, সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ব্যক্ত করেন। তিনি কাতারে বসবাসরত প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশী প্রবাসীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাতার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
একইসাথে কাতারের যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া, ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও মে মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জরুরি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাতায়াতে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেয়ায় কাতারের আমিরের মহানুভবতার কথাও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আঞ্চলিক শান্তি, সংলাপ ও মানবিক কূটনীতিতে কাতারের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
সফরকালে তিনি কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির সাথেও বৈঠক করেন। এ সময় সাম্প্রতিক এক সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় শ্রমমন্ত্রীর এক নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শোক ও সমবেদনা জানান।
সফরকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দোহাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিকদের কল্যাণ ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন।
তার এ সফর দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যকার অংশীদারত্বকে আরো গতিশীল করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই উদ্দেশ্যে দোহা থেকে আরো কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ সফরের কথা রয়েছে উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরের। ইউএনবি


