বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন ও বহুপক্ষীয় বিষয়ে সহযোগিতা আরো জোরদারে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মরক্কো।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোউরিতার বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়। গতকাল দেশটির রাজধানী রাবাতে এ বৈঠক হয়।
আজ বুধবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে সম্পৃক্ততা আরো গভীর এবং মরক্কোর সাথে অংশীদারিত্বকে সহযোগিতা, অভিন্ন সমৃদ্ধি ও কৌশলগত সুযোগের নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে আগ্রহী।
দুই নেতা রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মরক্কো সফরের ঐতিহাসিক স্মৃতি তুলে ধরেন। রাবাতে তার নামে একটি সড়কের নামকরণ করায় মরক্কো সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
উভয়পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বস্ত্র, ওষুধ, সিরামিক, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কৃষি, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, জাহাজ নির্মাণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
চলমান সহযোগিতা পর্যালোচনা এবং সম্ভাবনার নতুন খাত চিহ্নিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় পররাষ্ট্র দফতর পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠক আয়োজনেও সম্মত হয় তারা।
শামা ওবায়েদ সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোউরিতাকে আমন্ত্রণ জানান।
পরে মরক্কোর শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী রিয়াদ মেজ্জুরের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময়ের প্রস্তাব দেন। জবাবে মরক্কোর মন্ত্রী ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বিদ্যমান কৃষি সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফসফেটের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সরকারি পর্যায়ে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান। পাশপাশি মরক্কোর বাজারে পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রসারে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও পুনরায় তুলে ধরেন তিনি।
দুই দেশ উদ্ভাবন, শিল্প প্রশিক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। একই সাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শক্তিশালী করতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
একই দিনে মরক্কোর অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতাবিষয়ক মন্ত্রী ইউনেস সেক্কুরির সাথেও বৈঠক করেন শামা ওবায়েদ।
বৈঠকে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড কর্মসূচি এবং খাল পুনঃখনন প্রকল্পসহ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
দুই নেতা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।
জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকগুলোতে প্রতিমন্ত্রীর সাথে ছিলেন মরক্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ মণ্ডল।
উল্লেখ্য, ফ্রাঙ্কোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিতীয় সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে মরক্কো সফরে রয়েছেন শামা ওবায়েদ। আজ রাবাতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র : বাসস



