রোহিঙ্গা ও কৃষকদের সহায়তায় ডব্লিউএফপিকে ৬৭ লাখ ডলার দিলো জাপান

ডব্লিউএফপির সহায়তায় রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রতি মাসে খাদ্য ভাউচার পান, যার মাধ্যমে তারা নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে পারেন। পাশাপাশি তাজা শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও সংগ্রহ করতে পারেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের কৃষকদের সহায়তায় ডব্লিউএফপিকে ৬৭ লাখ ডলার দিয়েছে জাপান
রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের কৃষকদের সহায়তায় ডব্লিউএফপিকে ৬৭ লাখ ডলার দিয়েছে জাপান |সংগৃহীত

কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় জাপান সরকারের কাছ থেকে ৬৭ লাখ ডলার নতুন অনুদান পেয়েছে বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ সহায়তার মাধ্যমে ডব্লিউএফপি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পুষ্টি সেবা প্রদান করা হবে। একইসাথে কক্সবাজারের আশপাশের স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও সহনশীলতা বাড়াতে ‘অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার’ মডেলের মাধ্যমে সহায়তা দেয়া হয়। এসব কেন্দ্রে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য একত্র করে সহজে স্থানীয় বাজারে যুক্ত হয়ে মানবিক সহায়তায় অংশগ্রহণও করতে পারেন। এর ফলে তাজা শাকসবজি, ডিম ও চালসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর কাছেও পৌঁছানো সম্ভব হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, ‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় সম্প্রদায়ের পাশে থাকতে জাপান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডব্লিউএফপির সাথে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা খাদ্য নিরাপত্তা, উন্নত পুষ্টি এবং রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর সামগ্রিক কল্যাণে অবদান রাখতে চাই। একইসাথে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাজারে প্রবেশ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মাধ্যমে স্থানীয় বাংলাদেশীদের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’

ডব্লিউএফপির সহায়তায় রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রতি মাসে খাদ্য ভাউচার পান, যার মাধ্যমে তারা নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে পারেন। পাশাপাশি তাজা শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও সংগ্রহ করতে পারেন।

পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং ছোট শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে ডব্লিউএফপি। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ পুষ্টিপণ্য বিতরণ, শিশুদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ, পুষ্টি শিক্ষা ও আচরণ পরিবর্তন যোগাযোগ কার্যক্রম।

নতুন অনুদান প্রাপ্তির পর এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই অর্থায়ন বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি অবকাঠামো মেরামতে সহায়তা করবে, যাতে কৃষকেরা আবারো স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম চালাতে পারেন। এছাড়া অ্যাগ্রিগেশন সেন্টারগুলোতে হিমাগার ও আধুনিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা স্থাপন করা হবে, যা স্থানীয় খাদ্যের গুণগত মান ও বাজারমূল্য বাড়াতে সহায়ক হবে।

২০২৪ সালের শুরু থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। এতে সেখানে মোট রোহিঙ্গা জনসংখ্যা প্রায় ১২ লাখে পৌঁছেছে। কিন্তু চাহিদা বাড়লেও আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসছে। ২০২৬ সালের জন্য ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঘাটতি পূরণ না হলে আগামী এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য ডব্লিউএফপির খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পারচমেন্ট বলেন, ‘কক্সবাজারে মানবিক চাহিদা যখন অত্যন্ত বেশি, ঠিক সেই সময়ে জাপান সরকারের এই সহায়তা সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর প্রতি জাপানের দীর্ঘদিনের সমর্থনের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমরা অন্যান্য দাতাদেরও আহ্বান জানাই, যেন তারা এগিয়ে এসে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন, সুস্থতা ও মর্যাদা রক্ষায় সহায়তা করেন।’

২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরুর পর থেকে জাপান বাংলাদেশে এই মানবিক কার্যক্রমে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে। সর্বশেষ এই অনুদানসহ ডব্লিউএফপি, অন্যান্য জাতিসঙ্ঘ সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য জাপানের মোট সহায়তার পরিমাণ ২৬০ মিলিয়ন বা ২৬ কোটি ডলারের বেশি। ইউএনবি