ভবিষ্যৎ সহযোগিতায় প্রকৃতি সংরক্ষণ খাতে জার্মানি বাংলাদেশকে আরো বেশি গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান।
জার্মান পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগের পরিবেশ, প্রকৃতি সংরক্ষণ, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও ভোক্তা সুরক্ষা কমিটির একটি প্রতিনিধিদল ৭ থেকে ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ সফর করে।
ঢাকায় জার্মান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কমিটির ডেপুটি-চেয়ারম্যান মাইকেল থিউস। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।
সফরকালে প্রতিনিধিদলটি উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন করে। তারা জলবায়ু অভিযোজন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পানি সুরক্ষা ও দূষণ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।
ঢাকায় তারা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টুর সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিবেশ ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিনিধিদলটি সাভারে চামড়া ও বস্ত্রশিল্পের পরিবেশগত প্রভাব পর্যালোচনা করে এবং পরে খুলনা সফর করে জার্মান সহযোগিতায় পরিচালিত জলবায়ু অভিযোজন ও জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করে। সেখানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে জলবায়ু চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এছাড়া তারা সুন্দরবন পরিদর্শন করে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন এবং সাতক্ষীরা সফরে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সাথে সাক্ষাৎ করেন, যারা জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে উপকৃত হচ্ছেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি এখানকার মানুষের অভিযোজন সক্ষমতার প্রশংসা করেন।
মাইকেল থিউস বলেন, জার্মানি তার কারিগরি দক্ষতা দিয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং ভবিষ্যৎ পরিবেশ সহযোগিতায় দেশটিকে আরো অগ্রাধিকার দেবে।
বাংলাদেশে জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লটজ বলেন, এ সফর বৈশ্বিক জলবায়ু সঙ্কট মোকাবেলায় জার্মানির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একদিকে যেমন জলবায়ু পরিবর্তনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, অন্যদিকে অভিযোজন কৌশলে একটি উদাহরণ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সফর শেষে প্রতিনিধিদলটি জার্মানিতে ফিরে তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ উপস্থাপন করবে। বাসস



