নৌবাহিনীর অভিযানে ক্রিস্টাল ম্যাথ আইস, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ৩

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাসমূহে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
নৌবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়
নৌবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয় |সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান চালিয়ে ছয় কোটি টাকা মূল্যের ক্রিস্টাল ম্যাথ আইস, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তিনজনকে আটক করেছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাসমূহে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভাধীন নাইট্যংপাড়া এলাকায় নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে মাদক কারবারি জুনায়েদ ওরফে মুন্না ও তার রোহিঙ্গা সহযোগী হামিদুল্লাহকে আটক করা হয়। এসময় আটককৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে জুনায়েদ ওরফে মুন্নার বাড়ি এবং একই এলাকার মো: ইউনুসের বাড়ি তল্লাশি করে ৬ কোটি টাকা মূল্যের ১২৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল ম্যাথ আইস, ১২৬ পিস ইয়াবা, একটি এক নলা বন্দুক, দুটি ওয়াকি-টকি, আটটি দেশীয় অস্ত্র ও ৪৭ রাউন্ড তাজা গোলা উদ্ধার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী জানা যায়, উল্লিখিত মাদক, অস্ত্র ও গোলা রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বাসায় মজুদ করে রাখা হয়েছিল।

অপরদিকে পৃথক আরেকটি অভিযানে বরগুনার বামনা থেকে চিহ্নিত মাদক কারবারি সালমা পারভীনকে আটক করা হয়। এসময় ইয়াবা, গাজা, মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি, মোবাইল ফোন, নগদ ৬৪ হাজার ৪৮০ টাকা জব্দ করা হয়।

এছাড়াও, অন্য একটি অভিযানে ভোলার দৌলতখান হতে ১০টি ককটেল ও একটি দেশীয় পাইপগান উদ্ধার করা হয়।

অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদকসহ আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস, মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে উপকূলীয় এলাকা ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আটটি জেলার অন্তর্গত ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট ২৫টি কন্টিনজেন্টে প্রায় পাঁচ হাজার নৌবাহিনী সদস্য মোতায়েন রয়েছে।