গাজীপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে মদ জব্দ, আটক ২০

গাজীপুরে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ৬০ লিটার দেশীয় মদ, মদ তৈরির কাঁচামাল ভর্তি ২৯টি ড্রাম এবং মদ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতিসহ ২০ মাদকসেবীকে আটক করেছে পুলিশ।

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Gazipur
আটক ব্যক্তিরা
আটক ব্যক্তিরা |নয়া দিগন্ত

গাজীপুর মহানগরের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ৬০ লিটার দেশীয় মদ, মদ তৈরির কাঁচামাল ও উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ। একইসাথে মাদক সেবনের অভিযোগে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) রাত ৮টা থেকে ১টা পর্যন্ত গাজীপুরের বিভিন্ন জায়গায় এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানায়, রাত ৮টার দিকে জিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ ও টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ যৌথভাবে তুরাগ নদীর তীরবর্তী হাজি মাজার বস্তিতে অভিযান চালায়। এ সময় মাদক সেবনের অভিযোগে ২০ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের থানায় নেয়ার সময় বস্তির কিছু লোক তাদের ঘিরে ফেলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চারটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের অনেক ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ করে চলে যান। পরে আটক ব্যক্তিদের নিরাপদে টঙ্গী পশ্চিম থানায় নেয়া হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আরিফুর রহমান বলেন, ‘গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মো: বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রক্রিয়া চলছে।’

অন্যদিকে, রাত ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত চার ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে মহানগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দাক্ষিণ খান পূর্বপাড়া ভূঁইয়া বাড়ির একটি ভাড়া করা শেডে গড়ে ওঠা দেশীয় মদ তৈরির কারখানায় অভিযান চালায় জিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (দক্ষিণ) একটি দল। অভিযানের নেতৃত্ব দেন গোয়েন্দা বিভাগের (দক্ষিণ) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর ইসলাম। অভিযানে ৬০ লিটার দেশীয় মদ, মদ তৈরির কাঁচামাল ভর্তি ২৯টি ড্রাম এবং মদ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া শেডটির ভাড়ার চুক্তিপত্র অনুযায়ী এক হাজার ৫০ বর্গফুট আয়তনের শেডটি মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাড়া, ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম জামানত এবং দুই বছরের চুক্তিতে ভাড়া নেয়া হয়েছিল। চুক্তিতে শেডের মালিক হিসেবে দাক্ষিণ খান এলাকার এ কে এম শফিকুল কবির এবং ভাড়াটিয়া হিসেবে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কোষাবর গ্রামের কামরুজ্জামান মিরাজের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে ভাড়াটিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যতা নিয়ে পুলিশের সন্দেহ রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই শেডে গোপনে দেশীয় মদ উৎপাদন ও সংরক্ষণের কাজ চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ, কাঁচামাল ও উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মো: বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে মহানগরজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।’