মোসাব্বির হত্যায় গ্রেফতার ৪

ডিবির কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডিএমপি
ডিএমপি |ইন্টারনেট

রাজধানীর তেজতুরী বাজারে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর মিন্টুরোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো: শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা হলেন জিন্নাত (২৪), মো: বিল্লাল, আব্দুল কাদির (২৮) ও মো: রিয়াজ (৩১)।

শফিকুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী পাড়াস্থ হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে (৪৪) হত্যার উদ্দেশে গুলি করে।

এ ঘটনায় মোসাব্বিরসহ দু’জন গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পরপরই আহতদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন এবং সুফিয়ান বেপারী মাসুদকে (৪০) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নিবিড় তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার পরপরই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও হত্যার মোটিভ উদঘাটনে কাজ শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডিবির কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ডিবির একাধিক দল শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুই শুটারের একজন জিন্নাত, মূল সমন্বয়কারী মো: বিল্লাল, ঘটনার পর আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির ও ঘটনার আগেরদিন ঘটনাস্থল রেকিকারী মো: রিয়াজকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নম্বর প্লেট বিহীন একটি মোটরসাইকেল ও নগদ ছয় হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য কাজ করছে ডিবি। এছাড়া ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস অনুসন্ধান এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।