এখন চালক ও মালিক উভয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে : ডিএমপি

যেসব যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট, ভাঙা, বিকৃত অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে আংশিক ঢেকে রাখা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো: আনিছুর রহমান
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো: আনিছুর রহমান |সংগৃহীত

আগে শুধু নম্বর প্লেট সংক্রান্ত অপরাধে মামলা দায়ের করা হলেও এখন চালক ও মালিক উভয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো: আনিছুর রহমান।

তিনি জানান, রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে ডিএমপি। এআইভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে কোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন না করে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান তিনি।

তিনি বলেন, ‘শিগগিরই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। যেসব যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট, ভাঙা, বিকৃত অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে আংশিক ঢেকে রাখা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এআই প্রযুক্তি নম্বর প্লেট শনাক্তকরণের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে সহায়তা করে। কিন্তু নম্বর প্লেট অস্পষ্ট বা বিকৃত হলে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগে শুধুমাত্র নম্বর প্লেট সংক্রান্ত অপরাধে মামলা দায়ের করা হলেও এখন চালক ও মালিক উভয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট পদ্ধতিতে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পয়েন্ট কাটা হবে এবং আইন অনুযায়ী জরিমানা আরোপ করা হবে।’

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বলেন, ‘সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও নজরে আসে, যেখানে দেখা যায় এক মোটরসাইকেল চালক নম্বর প্লেটের শেষ তিনটি সংখ্যা ইচ্ছাকৃতভাবে ঢেকে রেখে সড়কে চলাচল করছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত শুরু করে ডিএমপি। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর আনুমানিক আড়াইটায় তেজগাঁও থানাধীন কারওয়ান বাজার ক্রসিং রাস্তার উপর মো: লাবলু হক (৩৮) ব্যক্তিমালিকানাধীন মোটরবাইকের নাম্বর প্লেটের (ঢাকা মেট্রো ল-১৬-৩৬৫৯) শেষের তিনটি ডিজিট ৬৫৯ সাদা স্কচটেপ দিয়ে ঢেকে রেখে মোটরসাইকেল চালানোর অপরাধে মঙ্গলবার (২ জুন) সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ধারা ৭২ অপরাধ মোতাবেক তাকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘এআইকে ফাঁকি দেয়ার এই অভিনব কৌশল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মামলা দেয়া, জরিমানা করা কিংবা কাউকে শাস্তি দেয়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষকে সচেতন করা, যাতে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মেনে চলে। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে আইন অমান্য করেন, সেক্ষেত্রে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ সময় ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : ডিএমপি নিউজ