আশুলিয়ায় ত্রিপল মার্ডার পূর্বের সম্পর্কের জেরে : পুলিশ

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে ভিকটিমের পার্স, সিমসহ মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। পরে আসামি হৃদয় আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক সময়ে বহুল আলোচিত আশুলিয়ায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্য তিন দিনের মধ্যে উন্মোচনের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা। জানিয়েছে, এ ঘটনার পেছনে রয়েছে হত্যাকাণ্ডের শিকার নারীর পূর্বের সম্পর্ক।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।

আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে নবজাতকসহ তিনজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয়কে (৪৪) আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে ভিকটিমের পার্স, সিমসহ মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। পরে আসামি হৃদয় আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

হৃদয় ফরিদপুর জেলার নগরকান্দর থানার দাম দরদী গ্রামের আ: জব্বার মাতুব্বর ও জাহানারা বেগম দম্পতির সন্তান। তার বর্তমান ঠিকানা-

তজু ভিলা, শারমিন গার্মেন্টস ৩ নম্বর গেইট, নরসিংহপুর, থানা- আশুলিয়া, জেলা- ঢাকা।

নিহতরা হলেন- আলমগীর কবির (৪৫), বাবা- অচুমদ্দিন, সাং- নিশা কাজলদীঘি; নাজমা খাতুন (৩৯), স্বামী- আলমগীর কবির, সাং- বড় মাগুরা; উভয় থানা- নবাবগঞ্জ, জেলা- দিনাজপুর এবং তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতক।

গত ৫ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থানাধীন জামগড়ার জনৈক হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার ৫৬ নম্বর কক্ষ থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় লোকজন আশুলিয়া থানায় সংবাদ দেন। পরে থানা পুলিশ কক্ষের দরজা খুলে শয়নকক্ষ থেকে তিনজনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে এবং লাশগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহত নাজমার বড় বোন মোসা: শাপলা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। ঘটনার পর থেকেই পিবিআই ঢাকা জেলা এ ঘটনার ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। পিবিআই’র সিডিউলভুক্ত মামলা হওয়ায় পিবিআই ঢাকা জেলা গত ৮ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিরস্ত্র) আনিসুর রহমান মামলাটি তদন্ত করছেন।

পিবিআই জানিয়েছে, তদন্তে ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পযার্লোচনায় জানা যায়, আসামি মনিরুজ্জামান হৃদয় ভিকটিম আলমগীরের পূর্বপরিচিত। আলমগীর বেকার ছিল। আসামি হৃদয় তরকারীর ব্যবসা করত। তাদের উভয়ের বাসার দূরত্ব ১০ মিনিটের হাঁটার রাস্তা। বিয়ের আগে থেকেই ভিকটিম আলমগীরের স্ত্রী ভিকটিম নাজমা বেগমের সাথে আসামি হৃদয়ের প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে নাজমার স্বামী আলমগীরের সাথে হৃদয়ের বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর আসামি হৃদয়ের বাসায় গিয়ে তাকে তাদের বাসায় নিয়ে আসে। সেখানে পূর্বের সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আলমগীর হৃদয়ের সাথে ধাক্কাধাক্কি করে এবং তাকে মারধর করতে থাকে। এ সময় নাজমা হৃদয়কে ঝাঁটা দিয়ে আঘাত করে। তখন হৃদয় তাদের সাথে ধাক্কাধাক্কি করে এবং ঘুষি দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে হৃদয় নাজমার পেটে লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। এতে নাজমার পেটে আঘাত লাগে এবং নাজমা ও তার গর্ভের সন্তান মারা যায়। পরে আলমগীর খুন্তি ও পাইপ দিয়ে হৃদয়কে আঘাত করলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপযার্য়ে হৃদয় আলমগীরের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ডের পর হৃদয় লাশগুলো খাটের ওপর শুইয়ে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় সে নাজমার ব্যবহৃত এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র ও তার ব্যবহৃত পার্স নিয়ে চলে যায়।

পিবিআই ঢাকা জেলার ইনচার্জ এম এন মোর্শেদ বলেন, ‘আমরা ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির পর থেকেই ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখি। আমরা ভিকটিমদের পূর্বে কার সাথে সম্পর্ক এবং চলাফেরা ছিল তা নির্ণয় করে যাচাই করি এবং সর্বশেষ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে আসামি গ্রেফতার করে আলামত উদ্ধার করতে সক্ষম হই। এ ঘটনার সাথে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।’