চাঁদার টাকা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মী নিহত

সাবেক যুবদল নেতা সোবহান ও সাবেক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কিরণ—দু’জনই সুমন ভূঁইয়ার অনুসারী। তারা দু’জনই কোতোয়ালি থানা যুবদলের পদপ্রত্যাশী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

নুর আলম, জবি সংবাদদাতা

Location :

Dhaka
নিহত স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মী মিতুল
নিহত স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মী মিতুল |নয়া দিগন্ত

পুরান ঢাকার সদরঘাটে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো: সুমন ভূঁইয়ার অনুসারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে মিতুল নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সূত্রাপুর থানাধীন ইস্ট বেঙ্গল সুপার মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।

মো: রাসেল সরদারের ছেলে মিতুলের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার ঝালকাঠি থানার সাহাবাঙ্গল গ্রামে। তিনি কোতোয়ালি থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাবেক যুবদল নেতা সোবহান ও সাবেক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কিরণ—দু’জনই সুমন ভূঁইয়ার অনুসারী। তারা দু’জনই কোতোয়ালি থানা যুবদলের পদপ্রত্যাশী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে কিরণ গ্রুপের একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। পরে তার লাশ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়।

এদিকে নিহতের স্বজনসহ প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি মিটফোর্ড হাসপাতালে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মো: সুমন ভূঁইয়া বলেন, ‘এরা আমার সমর্থক নয়। তবে মাঝে মাঝে বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে থাকে। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। বিস্তারিত জানতে পারিনি।’

সূত্রাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, ‘ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের ১৩ তলায় শ্রমিক যারা থাকে তাদের মধ্যে পূর্ব থেকে কোনো ভেজাল ছিল বলে আমরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছি। পূর্ব শত্রুতার রেশ ধরেই একটা ছেলেকে কাপড় কাটার কাচি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’