কদমতলীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা

নিহত নাঈম সিএনজি চালক ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়ালী জেলার সদর থানার জনকাঠি গ্রামে। তার বাবার নাম জাহাঙ্গীর হাওলাদার।

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা
বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

রাজধানীর কদমতলীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মোহাম্মদ নাঈম (১৮) নামে এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

রোববার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্মৃতিধারা ৮ নম্বর গলি ১৮৬৯ রাহেলা মঞ্জিল সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনাটি ঘটে।

নিহত নাঈম সিএনজি চালক ছিলেন। স্মৃতিধারা ৬ নম্বর গলির ২৫৫ নম্বর এম শফিকুর রহমানের বাড়িতে নিচতলায় ভাড়া বাড়িতে পরিবারের সাথে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়ালী জেলার সদর থানার জনকাঠি গ্রামে। তার বাবার নাম জাহাঙ্গীর হাওলাদার।

নিহত নাঈমের মা নাজমা বেগম বলেন, ‘রোববার সকাল ৯টায় আমার দু’ ছেলে নাঈম ও সাঈমকে বাসায় রেখে বাহির দিয়ে তালা দিয়ে আমি কাজ করতে যাই। তখন বাসায় আমার দু’ মানিক ঘুমিয়ে ছিল। সকাল সাড়ে ১০টায় আমাকে একটি ছেলে খবর দিয়ে বলে আন্টি আপনার ছেলেকে স্মৃতিধারা ৮ নম্বর গলিতে কয়েকটি ছেলে মারতেছে। আমি যেতে যেতে ছেলেকে পাইনি। রাস্তায় শুধু রক্ত দেখেছি। তাকে ওইখানকার লোকজন উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসে। গতকাল রাতে ও সকালে কেন জানি আমার ছেলে কোন খাবার খায়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার ছেলেকে কি বেশি মেরেছে ? তিনি বিলাপ করে বলতেছেন আমার ছেলে কখন বাসায় আসবে। সেই সকালে হাসপাতালে গেছে এখনো আসে না কেন? তার ছেলে মারা গেছে তার পাশে থাকা স্বজনরা কেউ বলেনি।’

নিহতের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি সংবাদ পেয়ে ঢাকা মেডিক্যালে এসে দেখি আমার ছেলে নাঈম মারা গেছে। তার লাশ মর্গে রাখা হয়েছে ‘

এদিকে স্মৃতিধারা এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ‘সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার সময় নিহত নাঈমকে স্মৃতিধারা ৮ নম্বর গলির পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে নিতে নিতে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

তারা বলেন, ‘আমাদের এলাকায় মাদকের ব্যাপক ছড়াছড়ি। কিশোর গ্যাং-এর ব্যাপক উৎপাত। থানা পুলিশ আগের মতো কাজ না করার কারণে কদমতলী থানা এলাকায় খুন, চুরি, ছিনতাই, মারামারিসহ অপরাধ প্রবনতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তারা আরো বলেন, ‘বাড়ির মালিকরা তাদের বাড়ির ও বাসার সামনে সিসি ক্যামেরা লাগালে অপরাধীরা অপরাধ করতে ভয় পেত।’

শ্যামপুর জোনের দায়িত্বরত শরাফত হোসেন বলেন, ‘পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিস্তারিত আরো জানার চেষ্টা চলছে।’