খামারবাড়িতে কর্মকর্তাদের হুমকি ও চাঁদা দাবি শেকৃবি ছাত্রদল নেতার

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তার কাছে চাঁদা দাবির পাশাপাশি হুমকিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ঢাকা অঞ্চলের ‘কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম মজুমদার।

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেকৃবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি এম আলমগীর কবির
শেকৃবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি এম আলমগীর কবির |সংগৃহীত

রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) দপ্তরে ঢুকে কর্মকর্তাদের গালাগাল, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি এম আলমগীর কবির।

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তার কাছে চাঁদা দাবির পাশাপাশি হুমকিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ঢাকা অঞ্চলের ‘কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম মজুমদার।

লিখিত অভিযোগে ড. কাইয়ূম মজুমদার জানান, বুধবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে ১০–১২ জন তার দপ্তরের ৭১৭ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। ঢুকেই তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার কারণে অফিসে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।

জানা যায়, ড. কাইয়ূম মজুমদারের রুম থেকে বেরিয়ে তারা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. হাবিবউল্লাহর রুমে যান। সেখানে বসা ছিলেন পেঁয়াজ সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান। তাকে রুম থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে এসে হুমকি-ধমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

ড. মাহফুজ একই সাথে সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক। তিনি বলেন, আলমগীর কবিরের সাথে আরো ১০–১২ জন লোক ছিলেন। বাইরে ডেকে নিয়ে তিনি আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি বলেছি, আমার কাছে টাকা নেই—কিডনি বিক্রি করে টাকা দিতে হবে। এর আগেও তিনি আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন।

এরপর ওই ছাত্রদল নেতা দলবল নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. হাবিবউল্লাহর রুমে ঢুকে তার কাছেও চাঁদা দাবি করেন। বিষয়টি স্বীকার করে ডিএই’র এই পরিচালক বলেন, তারা ঈদের বখসিস দাবি করেছে। বখসিস মানে তো চাঁদা। আমি সেটা কোথায় পাবো? এক পর্যায়ে তারা বের হয়ে যায়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেকৃবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি এম আলমগীর কবির। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি খামারবাড়িতে গিয়েছিলাম। ড. মাহফুজের সাথে আমার আগে থেকেই ভালো সম্পর্ক আছে। দেখা হলে আমরা হাসিখুশিভাবে কথা বলি। আমি তার সাথে ইয়ার্কি করেছি।

তিনি আরো বলেন, ডিরেক্টর (প্রশাসন)-এর কক্ষে গিয়ে আমি শুধু সালাম দিয়ে এসেছি। এছাড়া প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করেন। আমাদের দলের কিছু লোককে সেখানে যুক্ত করার জন্য কথা বলেছিলাম। তিনি সাড়া দেননি, তাই আবার কথা বলার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি দপ্তরে এ ধরনের ঘটনা তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, আমি অফিসে ছিলাম না, ওই সময় মন্ত্রণালয়ে একটা মিটিংয়ে ছিলাম। তবে আমাদের কর্মকর্তার সাথে ছাত্রদল নেতা খারাপ আচরণ করেছে বলে শুনেছি। বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়ে বিস্তারিত শুনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় যা যা করণীয় সব করা হবে।