সৌদি আরবে চাকরির প্রলোভনে মানবপাচার চক্র শনাক্ত, গ্রেফতার ৫

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী বাদী একটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার কথা জানতে পারেন। বিজ্ঞাপনে দেয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে চক্রের এক সদস্য তাকে বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকায় অবস্থিত অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে ভুক্তভোগীকে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় একটি কোম্পানিতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা বলে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী বিদেশ যাওয়ার আগেই সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের কথা বলা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংগৃহীত

সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার বাংলাদেশ পুলিশ (সিআইডি), (মিডিয়া) উইংয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে বনানী (ডিএমপি) থানার সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) ইউনিট তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫১টি বাংলাদেশী পাসপোর্ট, তিনটি স্মার্টফোন ও কয়েকটি রেজিস্টার উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন মো: শামীম (৪০), মো: রুহুল আমিন (২৪), মো: হৃদয় হাসান (২৬), আবু রায়হান (২৯) ও মো: সানি মিয়া (২৫)। গ্রেফতার পাঁচজনই মামলার এজাহারনামীয় অভিযুক্ত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী বাদী একটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার কথা জানতে পারেন। বিজ্ঞাপনে দেয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে চক্রের এক সদস্য তাকে বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকায় অবস্থিত অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে ভুক্তভোগীকে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় একটি কোম্পানিতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা বলে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী বিদেশ যাওয়ার আগেই সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের কথা বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চক্রটি বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ব্যাংক ও নগদে মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা গ্রহণ করে। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ড্রাইভিং ভিসা না দিয়ে তাকে সৌদি আরবের ট্যুরিস্ট ভিসা দেয়া হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী বনানী (ডিএমপি) থানায় মামলা করেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দায়ের করা মামলাটি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ১৫, ১৬, ১৯ ও ২০ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় করা হয়েছে।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি একইভাবে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে আরো কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আনুমানিক ১৯ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া বিদেশে কর্মসংস্থানের আকর্ষণীয় প্রস্তাব ও অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নিজেদের হেফাজতে রেখে আসামিরা মানবপাচার ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা। গ্রেফতারদের সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, পলাতক আসামি এবং চক্রটির দেশী-বিদেশী সহযোগী ও সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিসা পাইয়ে দেয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি করলে, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখলে অথবা ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে অবহিত করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।