পর্নোগ্রাফি বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি, ডিবির অভিযানে নারীসহ গ্রেফতার ২

জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারীর কাছ থেকে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ও ছবি তৈরির সাথে জড়িত তার এক সহযোগীর তথ্য পাওয়া যায়। পরে একই দিন বাড্ডা লিংক রোড এলাকা থেকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে ডিবি
প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে ডিবি |প্রতীকী ছবি

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে পর্নোগ্রাফি তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে এক তরুণীসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তরিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন– সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদ (২৫) ও খাজা সাকলাইন ফারুক (৩০)।

উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তরিকুল ইসলাম জানান, একটি চক্র পর্নোগ্রাফি ভিডিও ও ছবি তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিত। পরে নির্দিষ্ট টেলিগ্রাম গ্রুপ ও চ্যানেলের মাধ্যমে এসব কনটেন্ট অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হতো। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিতে বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব ব্যবহার করা হতো।

প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে ডিবি। এরপর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি আইফোন ও একটি ওয়ানপ্লাস মোবাইল জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারীর কাছ থেকে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ও ছবি তৈরির সাথে জড়িত তার এক সহযোগীর তথ্য পাওয়া যায়। পরে একই দিন বাড্ডা লিংক রোড এলাকা থেকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দ করা মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের বিজ্ঞাপন, বিক্রি ও আর্থিক লেনদেনের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কার্যক্রমের সাথে আরো কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা মুঠোফোনগুলো ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং অন্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।