অনলাইন জুয়া থেকে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি চক্রের আরো দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন নগদের ইউএসও (ইউনিট সেলস অফিসার) মো: জসিম উদ্দীন (৩৩) ও সুমন রায় (২৮)। তাদের মধ্যে সুমন রায় একটি বিদেশী অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
আজ সোমবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শাখার একটি দল গত রোববার নড়াইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
সিআইডি জানায়, গত ১৭ মে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা করা হয়। নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সিআইডি দেখতে পায়, দেশ ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইট সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছিল।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিআইডি জানতে পারে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের অ্যাজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করতেন। পরে এসব হিসাব বেটিং সাইটে ব্যবহার করা হতো।
সিআইডির দাবি, জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে কমিশন কেটে রেখে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ পাচার করা হতো। তদন্তে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত বিভিন্ন অ্যাজেন্ট নম্বরের সূত্র ধরে গ্রেফতার ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জসিম উদ্দীন ও সুমন রায় নিজেদের নামে নিবন্ধিত অ্যাজেন্ট সিম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। এ ছাড়া তারা বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত অ্যাজেন্ট সিম সংগ্রহ করে চক্রের অন্য সদস্যদের সরবরাহ করতেন। এসব সিম অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হতো।
সিআইডি জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন ও অর্থপাচারের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে, একই মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ৭ জুন টাঙ্গাইলে অভিযান চালিয়ে মো: সোলায়মান (৪৭), মো: সাগর মিয়া (২৮) ও মো: জুয়েল রানাকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়। পরে ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে মো: রায়হান খান (২১), মো: পাভেল রহমান ভূঁইয়া (২৩) এবং আবু জোবায়ের সানিকে (৩৬) গ্রেফতার করে সিআইডি।
অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের আরো ২ সদস্য গ্রেফতার
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিআইডি জানতে পারে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের অ্যাজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করতেন। পরে এসব হিসাব বেটিং সাইটে ব্যবহার করা হতো।



