অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন গ্রেফতার

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অহিদুর রহমান আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ফেক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক জুয়ার বেটিং সাইট পরিচালনা ও প্রচার করে আসছিলেন বলে র‍্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
গ্রেফতার জুয়া সাইটের অ্যাডমিন মো: অহিদুর রহমান (৪৩)
গ্রেফতার জুয়া সাইটের অ্যাডমিন মো: অহিদুর রহমান (৪৩) |সংগৃহীত

রাজধানীর শাহজাহানপুরে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন মো: অহিদুর রহমানকে (৪৩) গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৩।

বুধবার (২৬ আগস্ট) র‍্যাব-৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার মো: মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে র‍্যাব-৩-এর একটি আভিযানিক দল শাহজাহানপুর থানাধীন ২০ আউটার সার্কুলার রোডের রাজারবাগ এলাকায় ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সামনে অভিযান চালায়।

গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে জুয়া পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন, বিকাশ অ্যাপে ৮১ হাজার ২১৪ টাকা, নগদ অ্যাপে ৫০ হাজার ৪১ টাকা, দুটি ব্যক্তিগত সিমকার্ড, নগদ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি ইয়ামাহা এফজেড ভার্সন-৩ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অহিদুর রহমান আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ফেক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক জুয়ার বেটিং সাইট পরিচালনা ও প্রচার করে আসছিলেন বলে র‍্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন।

তার মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের চ্যাট হিস্টোরি পর্যালোচনা করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে জুয়া ও বেটিং সাইটের প্রচার এবং অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

র‍্যাবের দাবি, অহিদুর এই জুয়া ও বেটিং চক্রের একজন সুপার অ্যাজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।

র‍্যাব জানায়, চক্রের সদস্যরা মোবাইল ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগকৃত অ্যাজেন্টদের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনা করে আসছিল। তারা গ্রাহকদের অনলাইনে বেটিং খেলার জন্য বেটিং সাইটের নিজস্ব কারেন্সি বা পিবিইউ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেন।

র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, অহিদুর রহমানের ব্যবহৃত স্যামসাং মোবাইলের ক্রোম ব্রাউজারের হিস্টোরি পর্যালোচনা করে একাধিক অনলাইন বেটিং সাইটের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সাইটের কোনোটিতে তিনি অ্যাডমিন এবং কোনোটিতে অ্যাজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অনলাইন বেটিংয়ের জন্য গ্রাহক সংগ্রহে তার দুটি ফেক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে অহিদুর জানিয়েছেন, এই চক্রের সাথে অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১২ জন সদস্য জড়িত।

র‍্যাবের দাবি, চক্রের সদস্যরা জুয়া পরিচালনা করে অর্জিত অর্থ দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি ও গাড়িসহ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, গ্রেফতার অহিদুর ও তার সহযোগীরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন এবং ভুয়া পরিচয়ে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ছদ্মনামে অ্যাকাউন্ট খুলে বেটিং সাইট পরিচালনা করতেন। তাদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন ধারায় অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।