শাহজালালে উড়োজাহাজের সিটের নিচে মিলল ২০ কোটি টাকার স্বর্ণ

স্বর্ণের বারগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় পাওয়া গেছে। উড়োজাহাজটির আসনের নিচে কালো স্কচটেপে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে সরকারি ধার্যকৃত শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সেগুলো দেশে আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে যেকোনো পথে সেগুলো বিমানবন্দর সীমানার বাইরে পাচারের আশঙ্কা ছিল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকা
উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকা |ইন্টারনেট

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের আসনের নিচ থেকে ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন নয় কেজি ৩৩১ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকা।

বুধবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইট বিমানবন্দরে অবতরণের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালান।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা উড়োজাহাজটিতে বিশেষ তল্লাশির জন্য উপস্থিত হন। এ সময় উড়োজাহাজটি যাত্রীবিহীন অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি আসনের নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো কিছু বস্তু পাওয়া যায়। সেগুলো কাস্টমস হলে নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে খোলা হলে ৮০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।

কাস্টমস জানায়, প্রতিটি স্বর্ণের বারের ওজন ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম। সব মিলিয়ে স্বর্ণের ওজন নয় হাজার ৩৩১ গ্রাম।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বর্ণের বারগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় পাওয়া গেছে। উড়োজাহাজটির আসনের নিচে কালো স্কচটেপে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে সরকারি ধার্যকৃত শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সেগুলো দেশে আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে যেকোনো পথে সেগুলো বিমানবন্দর সীমানার বাইরে পাচারের আশঙ্কা ছিল।

কাস্টমস হাউস, ঢাকা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে চোরাচালানটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আটক স্বর্ণের বারগুলো অধিক মূল্যবান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা করা হয়েছে। অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের নিষ্পত্তি পদ্ধতি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী মূল্যবান ধাতু হিসেবে স্বর্ণের বারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় আজ (৩ সেপ্টেম্বর) একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। দেশীয় অর্থনীতি রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে ঢাকা কাস্টমস হাউস গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সূত্র : ইউএনবি