ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ।
রোববার (৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজ্যের সীমন্তবর্তী জেলা বনগাঁয় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
দেশের কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে কথা হলে তারা দুই আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদিকে গুলি করে এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তদন্তকারীদের মতে, হামলাকারীদের মধ্যে একজনকে ফয়সাল করিম মাসুদ হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং অন্তর্বর্তী সরকার তাকে গ্রেফতারে সহায়তার জন্য ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে।
ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এর আগে ফয়সাল করিম মাসুদ, তার কোম্পানি অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড এবং তার পরিবারের সদস্যদের সকল ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। সে সময় সিআইসি কর্মকর্তা বলেছিলেন, ঘটনাটি ঘটাতে কোনো অর্থায়ন ছিল কি না তা নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলাকালীন সম্ভাব্য কোনো অর্থ স্থানান্তর বা গোপন করা ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
হাদিকে গুলি করার ঘটনার তদন্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো চালিয়ে যাচ্ছে, আর আর্থিক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ এই মামলার সাথে সম্পর্কিত সম্ভাব্য আর্থিক যোগসূত্র এবং লেনদেন পরীক্ষা করছে।
এর আগে, হাদি হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। মামলাটি তদন্ত করে ৬ জানুয়ারি ১৭ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছিল ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মামলার বাদি ১৫ জানুয়ারি ডিবির অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন এবং প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। তবে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ষষ্ঠবার পিছিয়েছে।



