রাজধানীর হাজারীবাগ থানার জাফরাবাদ পুলপার ঋষিপাড়ায় পরিকল্পিতভাবে নূরুল ইসলাম নামের এক ফটোগ্রাফারকে খুন করে ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে হাজারীবাগ থানা পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ছিনতাই করা দু’টি ডিএসএলআর ক্যামেরা এবং হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি রামদা ও একটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো: শাহীন চৌকিদার (২২), মো: নাঈম আহম্মেদ (২০), মো: শাহীন অকন্দ ওরফে শাহিনুল (২০), মো: শহিদুল ইসলাম (২০), মো: রহিম সরকার (১৯), মো: আনোয়ার হোসেন (১৯), মো: আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রাজা (১৯), মো: নয়ন আহম্মেদ (১৯), রিদয় মাদবর (১৮) ও মো: আরমান (১৮)।
হাজারীবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, নূরুল ইসলাম ‘Nurislam Photographer’ নামে একটি ফেসবুক পেইজ পরিচালনা করে বিভিন্ন ইভেন্টে ফটোগ্রাফির কাজ করতেন। গত ১৫ মে একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে নূরুল ইসলামকে কল করা হয়। ওই ব্যক্তি একটি বিয়ের ইভেন্টে ছবি তোলার জন্য তাকে বুকিং দিয়ে ৫০০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে অগ্রিম পাঠায়। পরদিন (১৬ মে) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে তাকে একই নম্বর থেকে ফোন করে শংকর চৌরাস্তায় অপেক্ষা করার কথা জানানো হয়। নূরুল ইসলাম তার সহযোগী মো: ইমন ওরফে নুরে আলমসহ মতিঝিলের এজিবি কলোনির বাসা থেকে বের হয়ে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে। সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি শংকর বাসস্ট্যান্ডে তাদের সাথে দেখা করে। তারা ওই ব্যক্তির কথা মতো একটি অটোরিকশাযোগে জাফরাবাদ পুলপার ব্লুমিং চাইল্ড স্কুলের কাছে বিয়ের অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা করে।
পরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জাফরাবাদ পুলপার ঋষিপাড়া এলাকায় পৌঁছামাত্র অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা তাদের রিকশার গতিরোধ করে। ঘটনার আকস্মিকতায় ইমন রিকশা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু দুষ্কৃতকারীরা নুরুল ইসলামকে ধরে ফেলে। তারা ধারালো চাপাতি দিয়ে নুরুল ইসলামের মাথা, ঘাড় ও হাতের আঙ্গুলে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তার কাছে থাকা দু’টি ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় নুরুল ইসলামের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নূরুল ইসলামের বড় ভাই মো: ওসমান গনি হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
থানা সূত্র জানায়, মামলাটি তদন্তকালে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর মঙ্গলবার ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঢাকার শংকর ও রায়েরবাজার এবং ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া ও তারাকান্দা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
হাজারীবাগ থানা সূত্রে আরো জানা যায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা টিকটকে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করতো। উন্নতমানের ও আকর্ষণীয় ছবি ও ভিডিও করার জন্য ডিএসএলআর ক্যামেরা সংগ্রহের পরিকল্পনা করে তারা। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী খেলার মাঠে ফুটবল খেলার পর নাঈম আহম্মেদের নেতৃত্বে ক্যামেরা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। তারা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের নাম করে ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে কৌশলে ক্যামেরা ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গ্রেফতাফ হওয়া নাঈম শংকর বাসস্ট্যান্ডে নূরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ইমনের সাথে দেখা করে। নাঈম তাদের একটি অটোরিকশাযোগে জাফরাবাদ পুলপার ব্লুমিং চাইল্ড স্কুলের কাছে বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা বলে নিয়ে যায়। রাত ৮টার দিকে জাফরাবাদ পুলপার ঋষিপাড়া ‘ক্ষণিকালয়’ নামের বাসার গেটের সামনে অটোরিকশাটি পৌঁছালে গ্রেফতারকৃত নাঈম, শাহীন, শাহীনুল, রহিম, নয়ন, রিদয়, রাজ্জাক, আনোয়ার, শহিদুল ও আরমান অটোরিকশার গতিরোধ করে নূর ইসলামের কাছ থেকে ডিএসএলআর ক্যামেরা ও ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। ক্যামেরা না দিতে চাইলে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নূরুল ইসলামের শরীরে এলোপাথাড়ি আঘাত করে এবং ক্যামেরাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



