শেওড়াপাড়ার গৃহবধূ সুইটি হত্যার বিচার দাবি

সুইটির ছোট ফুপু নুসরাত অভিযোগ করে বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। কিন্তু পুলিশ আসামির পক্ষে কাজ করে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সুজন মিয়া এবং তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
গৃহবধূ সুইটি হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন
গৃহবধূ সুইটি হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন |ছবি : নয়া দিগন্ত

রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় গৃহবধূ সুইটি আক্তার (২৫) হত্যার ঘটনায় জড়িত স্বামী সুজন মিয়ার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সুইটির পরিবার।

রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

মানববন্ধনে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গৃহবধূ সুইটি আক্তারকে তার স্বামী সুজন মিয়া পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন।

পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

পরিবার জানায়, প্রায় এক বছর আগে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা গ্রামের সুজন মিয়ার সাথে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা সুইটি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকার ১১৯ পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় বসবাস শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সুইটি ফ্রিল্যান্সিং ও টিউশনি করে মাসে ভালো টাকা আয় করলেও স্বামী সুজন জোরপূর্বক তার সব টাকা নিয়ে নিতেন। টাকার জন্য প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে সুইটি জানতে পারেন, তার উপার্জিত অর্থ অন্য এক বিবাহিত নারীর পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে।

পরিবারের দাবি, গত ৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার পর থেকে সুইটির ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়। পরদিন ৯ এপ্রিল ভোর ৫টা ১০ মিনিটে সুজন মিয়া এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে সুইটির লাশ রেখে চলে যান। পরে তিনি ফোনে সুইটির বড় ভাই আরিফকে জানান, সুইটি আত্মহত্যা করেছেন।

খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন এবং মিরপুর মডেল থানায় বিষয়টি অবহিত করেন। মিরপুর মডেল থানার এসআই কাঞ্চন নাহারের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছে পরিবার। তাদের দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন, লাশের সঠিকভাবে পরীক্ষা না করেই তড়িঘড়ি সুরতহাল সম্পন্ন করেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে রিপোর্ট দেরিতে পাঠিয়ে ময়নাতদন্তে বিলম্ব ঘটান।

এমনকি একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করে সুইটির পরিবার। ভিকটিমের বড় ভাইয়ের থেকে জোরপূর্বক এজাহারে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।

সুইটির ছোট ফুপু নুসরাত অভিযোগ করে বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। কিন্তু পুলিশ আসামির পক্ষে কাজ করে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সুজন মিয়া এবং তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।