বার বার সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেয়ার অভিযোগ

‘আমরা ভেবেছিলাম দেশে ভূমিদস্যুদের আর কোনো আধিপত্য থাকবে না। কিন্তু ঘটছে তার উল্টো। ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা নিরীহ মানুষের জমি দখলে উঠেপড়ে লেগেছে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
বার বার সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
বার বার সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন |ছবি : নয়া দিগন্ত

২০০৮ সালে আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ কাঠা জমি কেনেন দক্ষিণখানের পূর্বাচলের সালমা আক্তার বিউটি। এরপর সেই জমিতে মাটি ভরাট করেন ও আরসিসি পিলার দিয়ে সীমানা প্রাচীরও দেন তিনি। কিন্তু তার সীমানা প্রাচীর বারবার ভেঙে ফেলছে ডেভেলপার কোম্পানি আসিয়ান সিটির লোকজন। বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানিয়েছেন ও অভিযোগও করেছেন। কিন্তু তিনি কোনো বিচার বা সমাধান পাচ্ছেন না। পুলিশও তাকে সাহায্য করছে না।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ভুক্তভোগী নারী।

তিনি জানান, সেই ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালত তাদের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ বলে আদেশ দিলে কিছুদিন বন্ধ ছিল সেই অত্যাচার। এরপর গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবারো তাকে নানাভাবে হয়রানি ও অত্যাচার করে আসছিল তারা।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, হঠাৎ দুই মাস আগে ডেভেলপার কোম্পানি আসিয়ান সিটির সন্ত্রাসী বাহিনী আমার জমির আরসিসি প্রাচীরের আংশিক ভেঙে ফেলে। পুনরায় আনুমানিক ১০ দিন আগেও জায়গার সীমানা প্রাচীরের বাকি অংশ ভেঙে ফেলেছে। আমার পাশের প্লটের সাইন বোর্ড ভেঙে ফেলেছে। আসিয়ান সিটি সন্ত্রাসী দিয়ে আমার প্লট দখলের পায়তারা করছে। শুধু আমার জমি নয় আশেপাশের অন্যান্য মালিকের জমিতেও হানা দিচ্ছে। আমার মালিকানা জমি দেখতে গেলে আসিয়ান সিটির সন্ত্রাসীরা নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে আমি দক্ষিণখান থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। কিন্তু পুলিশ কোনো সমাধান দিচ্ছে না। তারা উল্টো চুপ করে আছে।

তিনি আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্টে আসিয়ান সিটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যে কারণে আসিয়ান সিটির অত্যাচার থেকে এলাকাবাসী স্বস্তিতে ছিল। ৫ আগস্টের পরে তারা প্রচার করা শুরু করেছে যে, আদালত থেকে রায়ের মাধ্যমে আসিয়ান সিটির কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো বাধা নেই। আদালত তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের আদেশ দিয়েছে, কিন্তু অন্যের জমি তো দখল করতে নির্দেশ দেয়নি।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমরা ভেবেছিলাম দেশে ভূমিদস্যুদের আর কোনো আধিপত্য থাকবে না। কিন্তু ঘটছে তার উল্টো। ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা নিরীহ মানুষের জমি দখলে উঠেপড়ে লেগেছে। আমার কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে জমিটি কিনেছি। কিন্তু এখন সন্ত্রাসীদের আক্রমণের ভয়ে আমি জায়গা দেখতে যেতে পারছি না। আমি আশঙ্কা করছি তারা আমার ও আমার আশপাশের জমির মালিকদের উচ্ছেদ করার পায়তারা করছে।

এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে দক্ষিণখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপ-সহকারী পুলিশ কমিশনার ও উত্তরা ডিসিকে কল করা হলেও কারো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।