বদিউল আলম মজুমদার

যেসব নিয়ম-পদ্ধতি শেখ হাসিনাকে দানবে পরিণত করেছে তা সংস্কার অপরিহার্য

যে ঐকমত্য কমিশনের ভিত্তিতে এখন আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা করছি, আলাপ-আলোচনা করে কতগুলো মৌলিক সংস্কারের বিষয়ে আমরা একমত হওয়ার চেষ্টা করছি।

আযাদ আলাউদ্দীন, বরিশাল ব্যুরো

Location :

Barishal
বরিশালে সুজনের সংলাপে বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যরা
বরিশালে সুজনের সংলাপে বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যরা |নয়া দিগন্ত

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটা দায়িত্ব হলো একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করা। একই সাথে যেসব নিয়ম পদ্ধতি প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে দানবে পরিণত করেছে এগুলোর সংস্কার করা। এজন্য সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন করেছে। এখন একটা ঐকমত্য কমিশন হয়েছে। যে ঐকমত্য কমিশনের ভিত্তিতে এখন আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা করছি, আলাপ-আলোচনা করে কতগুলো মৌলিক সংস্কারের বিষয়ে আমরা একমত হওয়ার চেষ্টা করছি।

শনিবার (১৯ জুলাই) বেলা ১১টায় বরিশালের বিডিএস হল রুমে আয়োজিত ‘জাতীয় সনদ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। সংলাপের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে আমরা কতগুলো সুপারিশ প্রণয়ন করবো। আমরা আশা করি এটা একটা জাতীয় সনদে পরিণত হবে এবং এটা স্বাক্ষরিত হবে। যেটা প্রয়োগ করা, মেনে চলা, রাজনৈতিক দলগুলো মেনে চলতে বাধ্য হবে।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিতাড়িত হয়েছেন। তিনি দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। আমরা যদি ফিরে তাকাই শেখ হাসিনাকি ট্যাংকে চড়ে বা খাকি পোশাক করে ক্ষমতায় এসেছিলেন কিনা? না আসেন নাই। তিনি একটা নির্বাচনের মাধ্যমে এসেছিলেন।’

সুজন সম্পাদক বলেন, ‘২০০৮ সালে একটা নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে কিছু কিছু প্রশ্ন আছে। একটা নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। তিনি ক্ষমতায় এসে ১৫-১৬ বছরের মাথায় এমন পর্যায়ে গিয়েছেন, এমন স্বৈরাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি মানুষের স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের এমন রোষানলে পড়েছেন তার বিরুদ্ধে, তার সরকারের বিরুদ্ধে, দলের বিরুদ্ধে একটা অভ্যুত্থান হয়েছে যাতে তিনি বিতাড়িত হতে বাধ্য হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা কিভাবে স্বৈরাচারে পরিণত হলেন? কারণ স্বৈরাচারী ব্যবস্থা আমাদের দেশে বিরাজমান ছিল। কতগুলো বিদ্যমান নীতি, নিয়ম পদ্ধতি, প্রতিষ্ঠান, আইন-কানুন সেগুলো কিন্তু শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচারী পরিণত করেছে। এছাড়া তিনি কিছু কিছু আইন-কানুনে পরিবর্তন এনেছেন। সংবিধান সংশোধন করেছেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংশোধন করেছেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী তিনি এনেছেন। যার ফলে তিনি আমাদের উপর স্বৈরাচারী হিসেবে ঝেঁকে বসেছেন আমাদের ঘাড়ে। এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন যেটা মানুষের জন্য অসহনীয় হয়েছে। তিনি এর মাধ্যমে আমাদের ভোটাধিকার হরণ করেছেন, বাংলাদেশকে একটা লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন। তিনি বহুভাবে আমাদের বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান, পদ্ধতি সবগুলোকে তছনছ করে ফেলেছেন। তিনি একটা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন।’

এই প্রেক্ষাপটেই একটা গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল এবং জনদাবির মুখে, গণঅভ্যুত্থানের মুখে তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নয় এর বাইরে বহু নাগরিক আছে। তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ মতামত আছে। আমরা সংবিধান সংশোধনের কথা বলছি, কতগুলো মৌলিক সংস্কারের কথা বলছি। সংবিধান হল জনগণের মতামতের প্রতিফলন, জনগণের অধিকারের রক্ষাকবচ। তাই জনগণের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্যই আমরা সুজনের পক্ষ থেকে সারাদেশে ১৫টি এই ধরনের সংলাপের আয়োজন করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণ মতামত দিতে পারে। পুলিশকে আরো কার্যকর করার জন্য কি কি পরিবর্তন আনা দরকার, এই লক্ষ্যে আমরা ১৫টি এলাকায় জনগণের মতামত নিচ্ছি। এবং এই মতামতের ভিত্তিতে আমাদের পক্ষ থেকে একটি খসড়া জাতীয় সনদ প্রণয়ন করেছি। এর ভিত্তিতে জনগণের মতামত নিয়ে আমরা ঐকমত্য কমিশনের সুজনের পক্ষ থেকে জনগণের পক্ষ থেকেও ঐকমত্য কমিশনের কাছে দেয়া হবে। যাতে ঐকমত্য কমিশন রাজনীতিবিদদের মতামতের পাশাপাশি জনগণের মতামত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেয়। কারণ জনগণের মতামত একটা রাষ্ট্রের নাগরীকে গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘নাগরিকের মতামতের মাধ্যমে যাতে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ সুগম হয় এবং তার ফলে যেন একটা গণতান্ত্রিক উত্তোরণ ঘটে, একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেন প্রতিষ্ঠিত হয়।

আয়োজিত সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলার সভাপতি গাজী জাহিদ হোসেন। এতে বরিশাল মহানগরী, বিভিন্ন জেলার সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, নারী প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।