ঝিনাইদহে জেলা বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও মেয়রের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয় বর্হিভুত সম্পদ অর্জন মামলায় ঝিনাইদহ জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি রোকনুজ্জামান বিশ্বাস রানু এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর বিরুদ্ধে সম্প্রতি চার্জশিট দাখিল করেছে ঝিনাইদহ জেলা দুর্নীতি দমন সমন্বিত অফিস ঝিনাইদহ দুদক।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

Location :

Jhenaidah
ঝিনাইদহে জেলা বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও মেয়রের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
ঝিনাইদহে জেলা বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও মেয়রের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট |নয়া দিগন্ত

সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয় বর্হিভুত সম্পদ অর্জন মামলায় ঝিনাইদহ জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি রোকনুজ্জামান বিশ্বাস রানু এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর বিরুদ্ধে সম্প্রতি চার্জশিট দাখিল করেছে ঝিনাইদহ জেলা দুর্নীতি দমন সমন্বিত অফিস ঝিনাইদহ দুদক।

এছাড়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জালিয়াতির একটি মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের বোন ফাতেমা খাতুন ও জাল সার্টিফিকেটে নিয়োগ দেয়ার দায়ে সরকারি মাহতাব উদ্দীন কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ মন্ডলের বিরুদ্ধে দুদক চার্জশিট দাখিল করেছে ।

ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও দুদক সূত্রে জানা গেছে, শহরের আরাপপুর এলাকার বজলুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে ঝিনাইদহ জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি রোকনুজ্জামান বিশ্বাস রানুর বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত শেষে ২০০৪ সালের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা তৎসহ মানি লন্ডারিং আইন প্রতিরোধ আইনের ২০১২ এর ৪(২) ধারামতে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ২০২৫ সালে চার্জশিট দাখিল করেন, যার মামলা নম্বর দুদক-১ ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ২/২২।

এদিকে ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে কালীগঞ্জ আড়পাড়া গ্রামের হাফিজ উদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর বিরুদ্ধে কালো টাকা সাদা করা ও জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পান। তদন্ত কর্মকর্তা ২০০৪ সালের ২৭(১) তৎসহ মানি লন্ডারিং আইন প্রতিরোধ আইনের ২০১২ এর ৪(২) ধারামতে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন, যার মামলা নম্বর স্পেশাল ৩/২১। মামলাটি গত ৮ এপ্রিল ১৩২৪ নম্বর স্মারকে বিচারের জন্য যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারী মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদে চাকুরি করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তিনি এই জাল সনদ দেখিয়ে তিনটি কলেজে চাকুরি করেছেন। শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আব্দুল লতিফের কন্যা ফতেমা খাতুনের স্থলে নিজের নাম বসিয়ে কালীগঞ্জের ইয়াকুব আলীর কন্যা ফাতেমা খাতুন ২০১২ সালের ৮ম নিবন্ধন পরীক্ষার জাল সনদ তৈরি করেন। নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আসল ফাতেমা খাতুনের রেজি নম্বর হচ্ছে ২০১২৮২৩০১৩। অন্যদিকে কালীগঞ্জ সরকারী মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক ফাতেমা খাতুনের রেজি নম্বর হচ্ছে ২২১২৮২১২০২।

কালীগঞ্জের ইয়াকুব আলীর কন্যা ও স্থানীয় সাবেক এমপি আনারের বোন ফাতেমা খাতুন ২০১২ সালের ৮ম নিবন্ধন পরীক্ষার জাল সনদ নিয়ে প্রথমে যশোরের একটি কলেজে চাকুরি করতেন। সেখান থেকে ইনডেক্স নিয়ে কালীগঞ্জ শহীদ নুর আলী কলেজে যোগদান করেন। এই জাল সনদের বুনিয়াদেই তিনি সরকারি বেতন ভাতা গ্রহন করতে থাকেন। কালীগঞ্জের মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজটি সরকারি করণের প্রক্রিয়া শুরু হলে তিনি তড়িঘড়ি করে সেখানে যোগদান করেন। ফাতেমা খাতুনকে জাল সনদে চাকুরি দেয়ার দায়ে তৎকালীন সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ মন্ডলকেও দুদকের মামলায় আসামি করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন ঝিনাইদহ সমন্বিত অফিসের উপ-পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ জানান, তদন্ত শেষে মামলা তিনটির চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এখন বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারে রয়েছে।