শরীয়তপুরের জাজিরায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ককটেলের আঘাতে মান্নান সরদার (৭৫) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রিপন মোল্লা (৩৫) নামে একজনের একজনের ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে রিপন মোল্লাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের লাউখোলা গজনাইপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জাজিরার মূলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদার এবং জাজিরা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে সোমবার সন্ধ্যায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দু’পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে সময় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এ সময় ককটেলের আঘাতে বিএনপি নেতা রেজাউল শিকদারের সমর্থক মান্নান সরদার গুরুতর আহত হন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, সংঘর্ষ চলাকালে ককটেলের আঘাতে তমিজ খাঁর সমর্থক রিপন মোল্লার (৩৫) ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ হামলায় রিপন মোল্লাসহ দু’পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা যায়, তমিজ খাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। উপজেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহেদ সরদারের হাত ধরে নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নেন।
এ বিষয়ে মূলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদার বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা তমিজ খাঁ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। সোমবার বিএনপি কর্মী মোশারফ চৌকিদার বাড়ি ফেরার পথে তমিজ খাঁর সমর্থকরা তার পথরোধ করে মারধর করে। একপর্যায়ে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিএনপি সমর্থক রাসেলের ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। তাদের ছোড়া ককেটেলেই আমাদের কর্মী মান্নান সরদার নিহত হন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা তমিজ খাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ সিকদার বলেন, ‘মান্নান সরদার আমাদের দলীয় কর্মী। তাকে অন্যায়ভাবে বোমা মেরে হত্যা করেছে তমিজ খাঁ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। আমরা তমিজসহ এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সবার শাস্তি চাই।’
তিনি বলেন, তমিজ খাঁ নির্বাচনের সময় দলের পক্ষে কাজ করলেও তার বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টি সঠিক নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি কখনো বিএনপি, কখনো স্বতন্ত্র, আবার কখনো জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তমিজ খাঁনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মদ জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



