মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গত দুইদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলের বোরো ধান ও সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পতনঊষার ইউনিয়নের কেওলার হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল এলাকায় ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়ছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত দুইদিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানিতে বোরো ধানের মাঠ প্লাবিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত দুইদিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গতকাল রাত থেকে দ্রুত কেওলার হাওরে প্রায় ৫০০ হেক্টর বোরো ধান ডুবে গেছে। এছাড়া মুন্সিবাজার, শমশেরনগর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে বোরো ধান ও সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে, বৃষ্টিপাত ও ঢলে ৭০ হেক্টর জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে এবং ৩৫০ হেক্টর জমির ফসল আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এ অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা আছে।
কমলগঞ্জের কেওলার হাওরের কৃষক আনোয়ার খান বলেন, গত দুইদিনের বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে অনেক এলাকায় আগাম বন্যা হয়েছে। এতে পতনঊষারের কেওলার হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আধা পাকা বোরো ধান ঘরে তুলতে না পারায় অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। বোরো ধানের পাশাপাশি কিছু কিছু এলাকার সবজি ক্ষেতও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ঢলের পানিতে তলিয়ে থাকলে কৃষকরা ব্যাপক ফসলহানির শিকার হবেন।
তিনি বলেন, ধান কাটার সময় হাওরের সব ধান ডুবে গেছে। অনেক কৃষক ঋণ করে ধান চাষ করেছেন। এসব কৃষক কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন? হঠাৎ বৃষ্টিতে আমাদের এত ক্ষতি হবে বুঝতে পারিনি।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, ‘বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৭০ হেক্টর জমির সম্পূর্ণ ও ৩৫০ হেক্টর জমির আংশিক বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তাছাড়া, সবজি ক্ষেতের বিষয়ে এখনো তথ্য আসেনি। পানি দ্রুত নেমে গেলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কথা নয়।’



