কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ড. এ. এইচ. এম. হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনকে একটি মডেল সংসদীয় আসনে রূপান্তর করা হবে। তিনি বলেন, মহেশখালীর চলমান ও সম্ভাব্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলো জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মহেশখালীর কালারমারছড়া বাজার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে মহেশখালীকে পিছিয়ে দিয়েছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, হাজার হাজার একর প্যারাবন কেটে চিংড়িঘের তৈরি করায় মহেশখালী দ্বীপ আজ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচিত হলে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। কালারমারছড়ার গোষ্ঠীগত হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। ধলঘাট ও মাতারবাড়ি উন্নয়ন প্রকল্পে স্থানীয় জনগণের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় হয়রানি, মাদক ও অপহরণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এক বছরের মধ্যেই মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সার্বিক চিত্র বদলে যাবে। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, জনগণের একজন সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। রাজনীতিকে ক্ষমতার মাধ্যম নয়, জনগণের সেবার পথ হিসেবেই দেখি। আপনাদের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার প্রতিটি এলাকাকে আধুনিক, শিক্ষিত ও উন্নয়নসমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করতে কাজ করে যাব।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের জন্য সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব অপরিহার্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার দোয়া, ভালোবাসা ও মূল্যবান ভোট কামনা করছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্রে রূপান্তর করা হবে।
নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ড. হামিদুর রহমান আযাদ এবং সঞ্চালনা করেন ছাত্রশিবিরের কক্সবাজার জেলার সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাগপা’র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, আদর্শিক নেতৃত্ব নির্বাচিত না হলে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়। ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে ড. এ. এইচ. এম. হামিদুর রহমান আযাদকে সংসদে পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন—বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আক্তারুজ্জামান, মুফতি আলী হাসান উসামা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ওবাইদুল হক কাসেমী নদভী, কক্সবাজার জেলা এবি পার্টির সভাপতি এনামুল হক সিকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ জেলা সেক্রেটারি মাওলানা ইউনুচ, এনসিপি জেলা সভাপতি অধ্যাপক আক্তার আলী, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য জাকের হোসাইন, মহেশখালী উপজেলা দক্ষিণ আমীর মাস্টার শামীম ইকবাল, উত্তর আমির মাস্টার নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কবির হোসেন, এনসিপি মহেশখালী উপজেলা সভাপতি মো. তারেক, এনসিপি নেতা মো. ইয়ামিন ও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম।
নির্বাচনী জনসভা থেকে ১১ দলীয় জোটের নেতারা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।



