প্রচণ্ড গরমে আশুলিয়ায় স্বস্তি তালের শাঁসে

তালের শাঁসে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং আয়রন, যা রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়ায় এবং হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এর আঁশ বা ফাইবার হজমশক্তি বাড়াতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে দারুণ সাহায্য করে। লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে তালে শাঁস।

তুহিন আহামেদ, আশুলিয়া (ঢাকা)

Location :

Dhaka
তালের শাঁস প্রস্তুতে ব্যস্ত মৌসুমী বিক্রেতা
তালের শাঁস প্রস্তুতে ব্যস্ত মৌসুমী বিক্রেতা |নয়া দিগন্ত

তালের শাঁস শুধু স্বাদে নয়, উপকারিতার দিক থেকেও একাধিক গুণে ভরপুর। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ভিটামিন, ফাইবার ও খনিজ উপাদান। যা শরীরকে গরমে ঠাণ্ডা রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শুধু তাই নয় তীব্র গরমে একটু স্বস্তি পেতে শিলয়াঞ্চল আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে হচ্ছে তালের শাঁস বিক্রি। এতে অনেকেই এটাকে মৌসুমী ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করে করছেন বাড়তি আয়।

শুক্রবার ও শনিবার (২৯ ও ৩০ মে) আশুলিয়ার মান্নান কলেজ গেট, কলাবাগান, গোহাইলবাড়ি, শিমুলিয়া বাজার, জিরানী বাজার, টেংগুরি, শ্রীপুর, নগীনগর বাইপাইল, জামগড়াবসহ বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে তালের শাঁস বিক্রি দেখা গছে।

আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকায় কথা হয় তালের শাঁসের মৌসুমী ব্যবসায়ী মাসুদ রানার সাথে। তিনি জানান, বছরের এই সময়টাতে তিনি তালের শাঁসের ব্যবসা করে থাকেন এবং বছরের অন্যান্য সময় তিনি অন্য ব্যবসা করেন। এই গরমে তালের শাঁসের কদর রয়েছে বেশ। বিভিন্ন গ্রাম থেকে গাছ থেকে তাল কিনেন তিনি। পরে সেগুলো গাছ থেকে পেরে নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য।

মাসুদ রানা জানান, প্রতি পিস তাল বা তিনটি তালের শাঁস ২০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। এতে দিন শেষে তার তিন থেকে চার হাজার টাকার মতো লাভ হয়। কোনো কোনো দিন আরো বেশিও হয়।

তিনি জানান, পথচারী কিংবা সাধারণ মানুষ তালের শাঁস বেশি পরিমাণে খেয়ে থাকে। গরমে একটু আরাম পায় বলেই মানুষ তালের শাঁস খায়। তার বেচা-বিক্রি অনেক ভালো বিধায় এ থেকে তার বাড়ত আয় হয়। যা দিয়ে তিনি সংসার চালান।

আশুলিয়ার শিমুলিয়া বাজারে তালের শাঁস বিক্রি করেন আমছের আলী। তিনি জানান, শিমুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনি তাল কিনে থাকেন। পরে সেগুলো গাছ থেকে পেড়ে এনে বাজারে খুচরা বিক্রি করেন। একটা তাল (তিন কুশের) ২০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। গরম বেশি হওয়ায় বিক্রিও বেশি। দিন শেষে তার ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মতো লাভ হয়।

তিনি জানান, তিনি একজন তালের শাঁসের মৌসুমী ব্যবসায়ী। বছরের অন্যান্য সময় তিনি গাছ কাটা, অটো চালানোসহ নানা কাজ করে থাকেন। বছরের এই সময়টাতে তিনি তালের শাঁস বিক্রি করেন। এতে তার সংসার স্বাচ্ছন্দ্যে চলে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জিরানী বাজারে তালের শাঁস খাচ্ছিলেন আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, ‘প্রচন্ড গরম লাগছে, শরীর ঘেমে গেছে। ভাবলাম একটা তালের শাঁস খাই কিছুটা হলেও শান্তি লাগবে।’

তিনি জানান, ‘প্রচন্ড এই গরমে তালের শাঁসে শরীর কিছুটা হলেও ঠান্ডা হয়। তাই তালের শাঁস খাচ্ছি।’

পুষ্টিবিদদের মতে, গরমে আইসক্রিম বা কোল্ড ড্রিংকের বদলে তালের শাঁস খাওয়া বেশ স্বাস্থ্যকর। এটি ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে ও শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীরের যে খনিজ ও পানির ঘাটতি হয়, তা পূরণে তাল শাঁস খুব দ্রুত কাজ করে।

তালের শাঁসে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং আয়রন, যা রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়ায় এবং হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এর আঁশ বা ফাইবার হজমশক্তি বাড়াতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে দারুণ সাহায্য করে। লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে তালে শাঁস।

বাংলাদেশ কোরিয়া মৈত্রী হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো: মাজহারুল আলম নয়া দিগন্তকে জানান, তালের শাঁস (কচি তালের নরম অংশ) গরমকালে জনপ্রিয় একটি প্রাকৃতিক খাবার। এটি পানিসমৃদ্ধ, হালকা মিষ্টি এবং এর কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। যার মধ্যে তালের শাঁস শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এতে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় গরমে শরীর হাইড্রেটেড রাখতে সহায়ক হতে পারে।

তালের শাঁস ডিহাইড্রেশন কমাতে সাহায্য করতে পারে, গরমে অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীরে তরল ঘাটতি পূরণে এটি উপকারী। হজমে সহায়ক, হালকা ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। কম ক্যালোরি ও হালকা খাবার, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের তুলনায় হালকা স্ন্যাকস হিসেবে গ্রহণ করা যায়। কিছু ভিটামিন ও মিনারেল থাকে, তালের শাঁসে অল্প পরিমাণে পটাশিয়াম, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক। গরমে অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটির অনুভূতি কমাতে কিছু মানুষের উপকার হতে পারে তালের শাঁসে।

তিনি জানান, তালের শাঁস গ্রহণে কিছু সতর্কতাও অবলম্বন করতে হয়। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে খাওয়া ভালো, কারণ এতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। অতিরিক্ত খেলে কারো কারো পেট ফাঁপা বা হজমের অস্বস্তি হতে পারে। সাধারণত এক থেকে তিনটি তালের শাঁস পরিমিতভাবে খাওয়া বেশির ভাগ মানুষের জন্য ঠিক থাকে বলেও জানান এই চিকিৎসক।