ভাণ্ডারিয়ায় ৫ মাদরাসায় পাস করেনি কেউ

একটি উপজেলায় দাখিল পরীক্ষায় সামগ্রিক পাসের হার ৩৪ শতাংশের কিছু বেশি ও একাধিক প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই পাস না করায় অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মামুন হোসেন, ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর)

Location :

Pirojpur
৫ মাদরাসায় পাস করেনি কেউ
৫ মাদরাসায় পাস করেনি কেউ |ফাইল ছবি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার পাঁচটি মাদরাসার কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

পুরো উপজেলায় দাখিলে পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৪১ শতাংশে। অপরদিকে এসএসসি পাশের হার ৬৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।

শতভাগ ফেল করা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো উপজেলার রাজপাশা বালিকা দাখিল মাদরাসা, পশারিবুনিয়া নূর মোহাম্মদ কারিগরি দাখিল মাদরাসা, জামে-ই উম্মুল কোরআন ঈদগাহ দাখিল মাদরাসা, দারুল মুহাম্মদ আদর্শ বালিকা দাখিল মাদরাসা ও চরখালী দাখিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠান পাঁচটিতে যথাক্রমে আট, ১৭, ১১, ১০ ও সাতজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

এ বছর ভাণ্ডারিয়ার ৩৬টি মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭৭০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২৬৫ জন। ফেল করেছে ৫০৫ জন ও জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র পাঁচজন। অপরদিকে ৩৫টি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৪০৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৯৬৩ জন। ফেল করেছে ৪৪৩ জন। আর ৩৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে বলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়া উপজেলার কয়েকটি মাদরাসার ফলাফলও অত্যন্ত নিম্নমুখী। নয়াখালী মাটিভাংগা আলিম মাদরাসায় ১৭ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন, পাসের হার পাঁচ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর আতরখালী ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় ১২ জনের মধ্যে একজন পাস করেছে, পাসের হার আট দশমিক ৩৩ শতাংশ।

আলগাজ্জালি ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় ৫৭ জনের মধ্যে ১০, ভান্ডারিয়া শাহাবুদ্দিন কামিল মাদরাসায় ৫০ জনের মধ্যে ১৪, সিংহ খালি দাখিল মাদরাসায় ১৮ জনের মধ্যে দুইজন ও পূর্ব মাটি ভাঙ্গা মোন্তাজিয়া দাখিল মাদরাসায় ১৪ জনের মধ্যে দুইজন পাস করে।

একটি উপজেলায় দাখিল পরীক্ষায় সামগ্রিক পাসের হার ৩৪ শতাংশের কিছু বেশি ও একাধিক প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই পাস না করায় অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা মাদরাসাগুলোর শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি ও ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয় ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: হাসিবুল হাসান বলেন, ‘ভান্ডারিয়া উপজেলায় এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হবে। একইসাথে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাওয়া হবে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’