হাবিপ্রবিতে বেড়েছে কুকুরের উপদ্রব, ৪ দিনে আক্রমণের শিকার ২

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক হল, অ্যাকাডেমিক ভবন ও খেলার মাঠের আশেপাশে দলবদ্ধভাবে বসে থাকে কুকুরগুলো। সন্ধ্যা হলে এসব এলাকায় কুকুরদের আক্রমণের শঙ্কা আরো বৃদ্ধি পায় বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

রাফিউল হুদা, হাবিপ্রবি

Location :

Dinajpur
কুকুরের উৎপাত
কুকুরের উৎপাত |নয়া দিগন্ত

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে সম্প্রতি বেড়েছে পথ কুকুরের উপদ্রব। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গেল সপ্তাহে চার দিনের ব্যবধানে দুই শিক্ষার্থী কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন।

সরেজমিনে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক হল, অ্যাকাডেমিক ভবন ও খেলার মাঠের আশেপাশে দলবদ্ধভাবে বসে থাকে কুকুরগুলো। সন্ধ্যা হলে এসব এলাকায় কুকুরদের আক্রমণের শঙ্কা আরো বৃদ্ধি পায় বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

কুকুরের আক্রমণের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড অ্যান্ড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান বলেন, ‘রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাস্তা শেষে আমার হলে ফেরত আসছিলাম। এমন সময় চার থেকে পাঁচটা কুকুর আমাকে ঘিরে ধরে এবং আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকজন সিনিয়র ভাইদের সহায়তায় এবারের মতো রক্ষা পেয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সায়েম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমি হলে ফিরছিলাম। হলের সামনে আসা মাত্রই দলবদ্ধ হয়ে বসে থাকা পাঁচ থেকে সাতটি কুকুর আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে ভয়ে আমি দৌঁড়ে হলের ভিতর প্রবেশ করি। দৌঁড়ানোর সময় স্লিপ খেয়ে পড়ে যাওয়ায় পায়ে আঘাতও লেগেছে। হল থেকে বের হওয়ার সময় এখনো ভয়ে থাকতে হয়, কখন আবার আক্রমণ করে বসে।’

বড় ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিবে এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সে সাথে এসব কুকুর নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও জানান তারা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: নওশের ওয়ান বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে কয়েকবার এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি। আমরা কুকুরগুলোকে ক্যাম্পাস থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করতে চাচ্ছি। স্থানান্তর করার জন্য যে সব সরঞ্জাম দরকার সেগুলো আমাদের কাছে নেই। এ সরঞ্জামগুলো ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় থাকে, তাদের সাথেও আমরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাণি কল্যাণ আইন অনুযায়ী যে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে বাধা থাকায়, আমরা ডিসি স্যারের অনুমতির অপেক্ষায় আছি। অনুমতি পাওয়া মাত্র আমরা কাজ শুরু করে দিব।’