ইন্টারপোলের সহায়তায় আরিফ সরকার (৪০) নামে হত্যা মামলার এক আসামিকে দুবাই থেকে ফেরত এনেছে পিবিআই। বুধবার (৬ মে) তাকে দেশে ফেরত আনা হয়।
গ্রেফতার আরিফ সরকার নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া কামারগাঁও এলাকার মরহুম হাফিজ উদ্দিন সরকারের ছেলে।

গ্রেফতার আসামি আরিফ সরকারসহ অন্য আসামিদের পরিকল্পনায় ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হারুনুর রশিদ খানকে নিজ বাসায় গুলি করা হয়। এতে গুরুতর আহত হারুনুর রশিদ ওই বছরের ৩১ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আমানুর রশিদ খান ২০২৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আরিফ সরকারসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে শিবপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর প্রথমে থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ২০২৩ সালের ২৩ জুন পিবিআই (নরসিংদী) মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআই-এর তদন্তকালে ঘটনার সাথে জড়িত অন্যতম আসামি মহসীনকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাই থেকে গ্রেফতার করে দেশে আনা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতে তিনি আরিফ সরকারসহ অন্য আসামিদের হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকা ও পরিকল্পনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন।
হত্যার ঘটনায় আরিফ সরকারের জড়িত থাকার সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় পিবিআই (নরসিংদী) বিদেশে তার অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আবেদন করে। পরে দুবাইতে আসামি আরিফ সরকারের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এর অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যূ করা হয় এবং তাকে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত আনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত শেষে পিবিআই (নরসিংদী) আরিফ সরকারসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ আসামি আরিফ সরকারকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করে। পরে পিবিআই ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম গতকাল বুধবার আসামি আরিফ সরকারকে দুবাই থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে।
আসামি আরিফ সরকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা শিবপুর থানায় মুলতবি থাকায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হযরত শাহজালাল (রা:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসামিকে শিবপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শিবপুর থানা পুলিশ বুধবার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে।



