বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরে পৃথক কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ

‘গত চার দিন ধরে শ্রমিকরা কারখানায় কর্মবিরতি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে আসছিল। এই পরিস্থিতিতে মালিকপক্ষ সাময়িকভাবে নীট ও ওভেন শাখা বন্ধ ঘোষণা করেছে। শ্রমিকরা এই নোটিশ দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।’

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

Location :

Gazipur
গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ |নয়া দিগন্ত

বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বন্ধ কারখানা খুলে দেয়া এবং ছাটাইকৃতদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে গাজীপুরে পৃথক দু’টি পোশাককারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে।

শনিবার (১২ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে গাজীপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন মোগরখালে অবস্থিত ফারদার ফ্যাশনস লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানার সামনে এ বিক্ষোভ করে। এছাড়া জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইছুটি এলাকায় সাউদার্ন নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানায় শ্রমিকরা সকাল ৯টার দিকে বিক্ষোভ শুরু করে। এ কারখানার শ্রমিকরা ছাঁটাই করা ১৭ শ্রমিককে পুনর্বহাল এবং কারখানার দু’ কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবি জানান।

শ্রমিকরা বলেন, গত মাসের বেতন তাদের এখনো পরিশোধ করা হয়নি। মালিকপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিলেও বারবার তার বাস্তবায়ন হয়নি। শ্রমিকদের ভাষ্য, ‘আমাদের বলা হয়েছিল, গত মাসের বেতন শিগগির পরিশোধ করা হবে। বারবার সময় দিলেও ১২ তারিখেও এখনো শ্রমিকরা বেতন পায়নি। বেতনের দাবিতে গত চার দিন আমরা আন্দোলন করে আসছি। অথচ আজ এসে দেখি কারখানায় তালা ঝুলানো, ঘোষণা এসেছে লে-অফের।’

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক ফারুক উল আলম বলেন, ‘গত চার দিন ধরে শ্রমিকরা কারখানায় কর্মবিরতি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে আসছিল। এই পরিস্থিতিতে আজ মালিকপক্ষ সাময়িকভাবে নীট ও ওভেন শাখা বন্ধ (লে-অফ) ঘোষণা করেছে। শ্রমিকরা সকালে কারখানায় এসে এই নোটিশ দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘একপর্যায়ে শ্রমিকেরা ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে আমরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেই। পরে শ্রমিকরা কারখানার সামনে চলে যায়।’

কারখানার কাজ বন্ধের নোটিশে লেখা রয়েছে, এতদ্বারা ফারদার ফ্যাশনস লিমিটেডের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকবৃন্দের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের নীট ও ওভেন শাখায় বর্তমানে সরাসরি কাজের অর্ডার না থাকায় কারখানা কর্তৃপক্ষ বাইং হাউজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ সংগ্রহ করে শ্রমিকদের কোনো প্রকারে মজুরি প্রদান করে আসছে। সামনের মাসে নীট ও ওভেন শাখায় শ্রমিকদের দিয়ে করানোর মতো কোনো কাজের অর্ডার হাতে নেই। এছাড়াও শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে পূর্ণ মজুরি প্রদান করা সম্ভব নয়। বিষয়টি মালিকের নিয়ন্ত্রন বহির্ভূত। তাই কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১২ ধারা মোতাবেক আগামী ১২ জুলাই থেকে ২৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত সাময়িকভাবে নীট ও ওভেন শাখার কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

কাজ বন্ধকালীন সময় সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৬ ধারার বিধান মোতাবেক লে-অফ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। কাজ বন্ধকালীন (লে-অফ) সময়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের কারখানায় উপস্থিত হয়ে হাজিরা দেয়ার প্রয়োজন নেই। প্রকাশ থাকে যে, কারখানার সোয়েটার শাখা ও নিরাপত্তা কর্মীরা এ লে-অফের আওতার বাইরে থাকবে।

এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং কারখানা পুনরায় চালু করার বিষয়ে মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে।

অপর ঘটনায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ছাঁটাই করা ১৭ শ্রমিককে পুনর্বহাল এবং কারখানার দু’ কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আজ শনিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বড়ইছুটি এলাকায় সাউদার্ন নিটওয়্যার লিমিটেড নামের কারখানায় এ বিক্ষোভ শুরু হয়।

পুলিশ ও কারখানার শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, সাউদার্ন নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানায় বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের দাবি আদায়ের বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এসব আন্দোলনে যেসব শ্রমিক নেতৃত্ব দিয়েছেন, সম্প্রতি তাদের একটি তালিকা তৈরি করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার ছুটির পর কারখানাটির প্রধান ফটকে ১৭ শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের নোটিশ টানিয়ে দেয়া হয়। পরের দিন শুক্রবার কারখানা বন্ধ ছিল। আজ শনিবার সকালে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে গিয়ে ১৭ শ্রমিকের ছাঁটাইয়ের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে সকাল ৮টার দিকে তারা কর্মবিরতি শুরু করেন।

একপর্যায়ে শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় শ্রমিকেরা ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পুনর্বহাল এবং কারখানার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নূরুল ইসলাম ও উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মিজানুর রহমানের পদত্যাগের দাবি তোলেন। খবর পেয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশ, কালিয়াকৈর থানা-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম জহিরুল ইসলাম জানান, শ্রমিকরা কারখানার ভেতরেই কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভ করে। পরে দুপুরে কারখানাটি এক দিনের ছুটি ঘোষণা করলে শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে যায়। তবে কারখানার ছাটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহালের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।