ধান বিক্রিতে অতিরিক্ত টাকা দাবি, বিপাকে মতলব উত্তরের কৃষক

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কৃষক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

Location :

Matlab Uttar
মতলব উত্তর উপজেলা খাদ্য গুদাম
মতলব উত্তর উপজেলা খাদ্য গুদাম |নয়া দিগন্ত

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কৃষক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রকৃত কৃষকরা মাথাপিছু ৩ মেট্রিক টন ধান খাদ্য গুদামে বিক্রি করার সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী চাষীদের অভিযোগ, সরকারি খাদ্য গুদামে নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষ না দিলে কোনোভাবেই ধান জমা নেয়া হচ্ছে না। শুধু ঘুষের হয়রানিই নয়, এখানে ঘটেছে নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনাও। লটারিতে নাম ওঠা অনেক সাধারণ কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে তাদের অজান্তেই ধান বিক্রি দেখিয়ে টাকা তুলে নিয়েছে একটি চক্র।

উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক তানভীর হোসেন জানান, ঘুষের টাকা না দিলে সরকারি খাদ্য গুদামে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রির কোনো সুযোগই নেই। তার কাছ থেকে শ্রমিক মজুরি, অফিস খরচ ও বিভিন্ন খরচের কথা বলে খাদ্য গুদামের অফিস সহকারী সাদ্দাম হোসেন ৫,৫০০ টাকা নিয়েছেন।

পরিচয় গোপন করে ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের কৃষক হাফেজ বিল্লাল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, অফিস খরচ বাবদ তিনি ৬,০০০ টাকা দিয়েছেন।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি উদ্যোক্তা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো: আতাউর রহমান সরকার বলেন, ‘উপজেলার কৃষকরা কষ্ট করে ধান উৎপন্ন করেন আর ভাগ্যগুণে লটারিতে নাম ওঠে। কিন্তু সেই ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি চলে খাদ্য গুদামে। ঘুষের টাকা না দিলে ভাগ্য টেকে না সরকারি খাদ্য গুদামে। হয়রানি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়েই ঘুষ দিতে হয় গুদাম কর্মকর্তাকে।’

তিনি জানান, অফিস খরচ বাবদ তাকেও ৩,০০০ টাকা দিতে হয়েছে।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক সুরুজ মোল্লা জানান, তিনি জানেনই না কে বা কারা তার আইডি কার্ড ব্যবহার করে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করে ফেলেছে।

মতলব উত্তর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসমান গনি বলেন, ‘যে টাকা নেয়া হয়েছে, তা সরকারের নির্ধারিত ভ্যাট, আইটি ও শ্রমিক (লেবার) খরচের জন্য। তবে অফিস সহকারী যদি এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘লটারির পুরো কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো: আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে মতলব উত্তর উপজেলায় লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ৩০৯ জন কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ও চাল ক্রয়ের অভিযানের আওতায় মোট ৯২৩ টন ধান এবং ৩৮ টন চাল সংগ্রহ করা হবে।