রাজশাহীর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর দাবিতে স্মরিকলিপি

রাজশাহীতে শিশুমৃত্যুরোধ, সহজলভ্য ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতে অবিলম্বে বিশেষায়িত রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু ও অতি সংক্রমক রোগ ‘হাম’ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ‘স্বাধীন ও স্থায়ী স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনসহ ৫ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা: এস আই এম রাজিউল করিম বরাবর পৃথক স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
রাজশাহীর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর দাবিতে স্মরিকলিপি
রাজশাহীর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর দাবিতে স্মরিকলিপি |নয়া দিগন্ত

রাজশাহীতে শিশুমৃত্যুরোধ, সহজলভ্য ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতে অবিলম্বে বিশেষায়িত রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু ও অতি সংক্রমক রোগ ‘হাম’ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ‘স্বাধীন ও স্থায়ী স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনসহ ৫ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা: এস আই এম রাজিউল করিম বরাবর পৃথক স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে বরেন্দ্র অঞ্চলের যুব ও উন্নয়ন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহের বৃহৎ ঐক্য বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের পক্ষ এ স্মারকলিপি দেয়া হয়। রাজশাহীর সিভিল সার্জনের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মোসা: মাহবুবা খাতুন।

স্মারকলিপির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, পরিচালক (স্বাস্থ্য), রাজশাহী, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক, রাজশাহী জেলা প্রশাসক এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়।

এসময় লেখক এবং নদী ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, চিকিৎসা অন্যতম একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু তারপরেও দেশব্যাপী সহজলভ্য ও সুচিকিৎসার অভাবে প্রতিনিয়ত প্রচুর মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। এভাবে শিশুরাও অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। আইসিইউ সেবার অপ্রতুলতার কারনণ গত ১১ মার্চ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে ১১ দিনে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ-এর অপেক্ষায় থাকা ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আইসিইউ সেবা পেলে শিশুগুলো বেঁচেও যেতে পারত।

চিকিৎসার নগরী খ্যাত রাজশাহীতে বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় রোগীর হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। হামের জটিলতা থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখে ও মাথায় প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগে শিশুরা আক্রান্ত হয় ও মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়। এই অবস্থায় বাচ্চাদের আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হয়।

একদিকে আইসিইউ’র অভাবে শিশুর মৃত্যু হচ্ছে, অপরদিকে রাজশাহীতে শিশুদের জন্য নির্মিত ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর অভাবে অযত্ন অবহেলায় পড়ে রয়েছে। রাজশাহী নগরীর টিবি পুকুর এলাকায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যেই হাসপাতালের সম্পূর্ন কাজ শেষ হয়। কিন্ত অদৃশ্য কারণে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে না। শিশুরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অকাল মৃত্যুর শিকার হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বিগত অন্তবর্তী সরকার একটি স্বাধীন স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন গঠন করে এবং ৫ মে’ ২০২৫ তারিখে এই কমিশন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে প্রাথমিক সেবা শক্তিশালীকরণ, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ; রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সন্তুষ্টি, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিকিৎসা শিক্ষা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর সেবার মাধ্যমে দেশে বিশ্বস্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার রূপরেখা শীর্ষক প্রতিবেদন প্রদান করেছে। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে মোট ৪০০ এর বেশি সুপারিশ প্রদান করেছে এবং বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ৩৩টি সুপারিশকে আশু বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- রাজশাহীর বিশেষায়িত ২০০ শয্যার ‘রাজশাহী শিশু হাসপাতালটি’তে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু করা; রাজশাহীসহ দেশব্যাপী অতি সংক্রমক রোগ হামের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা; অসুস্থ্যদের সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা; রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করা। সকল অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা যেমন- চিকিৎসকের অবহেলা-অনুপস্থিতি, দালালের দৌরাত্ম, রোগীদের ভোগান্তি নিরসন করা; রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন করা। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্তকরণসহ আইসিইউ কমপ্লেক্সর অনুমোদন ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর ১০ শতাংশের জন্য আইসিইউ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; একটি ‘স্বাধীন ও স্থায়ী স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠন করাসহ ‘স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন’ এর সুপারিশসমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা।