লালমনিরহাট-১ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াত প্রার্থীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন লালমনিরহাট ১ (পাটগ্রাম হাতীবান্ধা) আসনের ১১ দলীয় জোটের জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু।

আমিনুর রহমান বাবুল, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট)

Location :

Patgram
লালমনিরহাট-১ আসনে ভোট  পুনর্গণনা দাবি জানিয়েছেন জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু
লালমনিরহাট-১ আসনে ভোট পুনর্গণনা দাবি জানিয়েছেন জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু |নয়া দিগন্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন লালমনিরহাট ১ (পাটগ্রাম হাতীবান্ধা) আসনের ১১ দলীয় জোটের জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু।

শুক্রবার রাতে (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক আতাউর রহমান, পাটগ্রাম উপজেলা আমির হাফেজ শোয়াইব আহমেদ, উপজেলা সেক্রেটারি মনোয়ার হোসেন লিটন, সাবেক উপজেলা আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সাবেক পৌর আমির মাসুদ আলম।

আনোয়ারুল রাজু অভিযোগ করে বলেন, আমরা দেখেছি সারাদেশে গড়ে ৬২ দশমিক ২৭ পার্সেন্ট ভোট পড়েছে সেখানে কোন অদৃশ্য কারণে এই আসনে ৮৩ পার্সেন্ট ভোট গণনা করা হয়েছে তা সবার প্রশ্ন । তিনি শ্রীরামপুরের বানিয়াডাঙ্গী কাউয়ামারী জগতবেড় ইউনিয়নের টংটিংডাঙ্গা বুড়িমারী ইউনিয়নের কামারেরহাট কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্রে দলের নেতাকর্মীদের ওপরে হামলা এবং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের দেয়ার অভিযোগ করে বলেন প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করার পরও তারা নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে যাননি। এতে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ পরিলক্ষিত হয়েছে।

তিনি কিছু কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার পরও রেজাল্ট অনেক দেরিতে দেয়ার অভিযোগ করে বলেন কিছু পুলিশের শরীরে বডি ক্যামেরা দেখা যায়নি অভিযোগ করার পর তারা সেগুলো লাগিয়েছেন। এছাড়াও ভোট চলাকালীন প্রায় দুই ঘণ্টা ইন্টারনেট ছিল না।

এজেন্টদের কাছ থেকে রেজাল্ট শিটে আগে সিগনেচার নেয়ার অভিযোগ করে রাজু আরো বলেন, ভোটে কিছু না কিছু বাতিল ভোট থাকে কিন্ত অধিকাংশ রেজাল্ট শিটে আমরা কোনো বাতিল ভোট পাইনি। তাদের নিকট সিগনেচার নিয়ে পরে রেজাল্ট দেয়া হয়েছে। বিষয়টি একদিকে যেমন দুভার্গ্যজনক অন্যদিকে রহস্যজনক। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন রক্তক্ষয়ী জুলাই আন্দোলনে এতবড় বিজয় অর্জন করার পরে দেশবাসী আশা করে ছিল একটি অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্ত এই আসনে সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

রিটানিং কর্মকর্তার নিকট এই নির্বাচনের ব্যালট পেপার পুনর্গণনার জন্য লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট আবেদন জানানো হয়েছে। কারণ আমরা যতগুলো কেন্দ্রে গিয়েছি তাতে দুপরের পরে অধিকাংশ কেন্দ্রে কোনো ভোটার উপস্থিতি সে রকম লক্ষ্য করা যায়নি। এসময় দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নিকট জানতে চাইলে তারা কোথাও ফিফটি ফাইভ কোথাও ফোরটি ফাইভ পাসেন্ট ভোট কাস্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তাহলে সেখানে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে, অতিরিক্ত থার্টি থ্রি পাসেন্ট ভোট কোথা থেকে এলো, বিষয়টি রহস্যজনক।