জাতীয় পার্টির মহাসচিবসহ সব পদ থেকে পদত্যাগ করলেন আহসান হাবীব

‘বিশ্বাসঘাতকতা করেছে আমার দল জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)। তাই বিশ্বাঘাতকদের পরিত্যাগ করে আমার এলাকার জনগণের আদালতে বিচার দেয়ার লক্ষে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিবসহ সব পদ থেকে পদত্যাগ করছি...’

আ ফ ম নুরুল কাদের, কুষ্টিয়া

Location :

Kushtia
আহসান হাবিব লিংকন
আহসান হাবিব লিংকন |নয়া দিগন্ত

সবকিছু বিসর্জন দিয়েও জোটে জায়গা হয়নি। তাই ক্ষোভে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিবসহ সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন কুষ্টিয়ার সন্তান, সাবেক এমপি আহসান হাবীব লিংকন।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে নিজ ফেসবুক আইডি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি বিএনপির সাথে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন ফেসবুকে।

তার ওই আবেগময় স্ট্যাটাস নীতিজনদের দৃষ্টি কেড়েছে। কেউ সান্ত্বনা জানিয়ে মন্তব্য লিখেছেন, আবার কেউ সমলোচনা করে বিস্ফোরণমূলক মন্তব্য করেছেন।

তিনি একটি গানের পঙক্তি দিয়ে লিখেন, ‘যে কথা হয়নি বলা, সে কথা কি কম প্রিয় ছিল? তুমি শুনিতে চাহনি প্রিয়। আপনায় ফিরে আপনার স্বর, স্বরের গভীরে বেঁধেছে এ ঘর, স্বপনে বাঁধনও দিয়া।’

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘স্বপ্ন ছিল আমার সততা, নিষ্ঠা দেশপ্রেম দিয়ে সারাজীবনের অর্জিত সুনাম সুখ্যাতি দিয়ে নিজের অর্জিত মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে বাকি জীবনটুকু শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিঘোষিত ৩১ দফা এবং দেশপরিচালনায় অবদান রাখব। কিন্তু হায়! আমাকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়নি।

২০১৮ সালের মহা দুর্দিনে প্রার্থী হয়ে জীবন বিপন্ন হতে যেয়েও কোনো রকমে প্রাণে বেঁচে যাই। আমার বাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে ভস্মীভূত করা হয়। জোট ও যুগপৎ আন্দোলনের একমাত্র নেতা যাকে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করে আদালত। বিএনপির দালালি করার অপরাধে বাংলা কলেজ ছাত্রলীগের গুণ্ডাবাহিনী আক্রমণ করে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে লোহার রড ও গজারী কাঠের লাঠি দিয়ে পেটানো হয়...’

তিনি আরো লিখেন, ‘বিশ্বাসঘাতকতা করেছে আমার দল জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)। তাই বিশ্বাঘাতকদের পরিত্যাগ করে আমার এলাকার জনগণের আদালতে বিচার দেয়ার লক্ষে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) এর মহাসচিবসহ সব পদ থেকে পদত্যাগ করছি...’

আহসান হাবিব লিংকন সম্প্রতি কুষ্টিয়ার মিরপুরের এক জনসভায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য এবং জামায়াতের প্রার্থীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করে ব্যাপক সমলোচিত হন। এরপর থেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়েন তিনি।

উল্লেখ্য, আহসান হাবিব লিংকন ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির হয়ে ১৩ হাজার ৪৮৭ ভোট পেয়ে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে ২৪ হাজার ৬১৫ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রউফ চৌধুরীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ৪০ হাজার ১০ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন তিনি।

এরপর ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২৫ হাজার ৩৩৪ ভোট পেয়ে ৪র্থ স্থান লাভ করেন লিংকন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাত্র ১৮৩ ভোট পেয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ২০১৮ সালে বিএনপির হয়ে নির্বাচন করে ৩৬ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।

আহসান হাবিব লিংকন এরশাদ সরকারের সময় ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন তিনি।