মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বনিম্ন ১০.৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত, বেড়েছে শীতজনিত রোগী। আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও কমে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে।

হুসাইন মালিক, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গা
মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গা |নয়া দিগন্ত

দেশের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় ক্রমেই কমছে তাপমাত্রা। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সকালবেলায় সূর্যের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা কমছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ।

আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। চলতি মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

তীব্র শীতের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ জন বয়োবৃদ্ধ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ শিশু রোগীও চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন।

গ্রাম থেকে জেলা শহরে কাজের সন্ধানে আসা শ্রমিকরা জানান, ভোর থেকে দুপুর ২-৩টা পর্যন্ত কাজ করতে হলেও প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। হিমেল বাতাসে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আজিম উদ্দিন নামের এক কৃষক জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমার রোগী। কৃষিকাজ করেই তার জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। সকালে মাঠে কাজ করতে পারেন না। ঠান্ডার মধ্যে কাজ করলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। তবুও পেটের দায়ে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার কাজে ফিরতে হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান জানান, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। মাসের শেষের দিকে কিংবা নতুন বছরের শুরুতে চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Topics