টাঙ্গাইলে সদর থানার এক মামলায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী মো: সোলায়মানকে (৪৭) এবং ঘাটাইল থানার একটি হত্যা মামলায় আমিনুল ইসলাম (৩৫) নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দনা এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদলতের বিচারক মো: হাফিজুর রহমান পৃথক মামলায় এ রায় দেন।
টাঙ্গাইলের স্পেশাল জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: শাহজাহান কবীর জানান, বিগত ২০০৬ সালের প্রথম দিকে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার দিঘুলিয়া গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে সোলায়মানের সাথে নাগরপুর উপজেলার শাহজানী গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর মেয়ে আয়শা বেগমের (২০) বিয়ে হয়। আয়শার গায়ের রঙ কালো হওয়ায় স্বামীর বাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন করতে থাকে।
একপর্যায়ে বিগত ২০০৭ সালের ৫ মার্চ রাতে স্বামী সোলায়মান ছয় মাসের গর্ভবতী স্ত্রী আয়শাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার লাশ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালুটিয়া গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ে ফেলে রাখে। সকালে স্থানীয় লোকজন বাঁশঝাড়ে লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পরদিন ৬ মার্চ আয়শার মামা আদম আলী স্বামী সোলায়মান, শ্বশুর আব্দুল বারেক, ভাশুর ইউসুফ আলী ও শাশুড়িকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ ১৯ বছর মামলার বিচার কাজ চলার পর সোমবার আসামি সোলায়মানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন জেলা স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দনা। অন্য তিন আসামিকে খালাস দেয়া হয়। এ সময় দণ্ডিত আসামির অনুপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক।
অন্যদিকে, ঘাটাইল থানার একটি হত্যা মামলায় আমিনুল ইসলাম (৩৫) নামে একমাত্র আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান।



