সিলেট ব্যুরো ও কানাইঘাট সংবাদদাতা
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার হাওরপাড় এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত যুবলীগ ক্যাডার জাকারিয়া আহমদকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বানীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী সড়কের কুদরতের দোকান এলাকা থেকে ধারালো অস্ত্রসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত জাকারিয়া বড়দেশ উত্তর গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাকারিয়া দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বীরদল হাওর এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এলাকাবাসী তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ থাকলেও ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৪ মার্চ সকালে জাকারিয়া ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বড়দেশ উত্তর নয়াগ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল হাইয়ের মালিকানাধীন এমএএইচ ফিসারিজ অ্যান্ড এগ্রো ফার্ম থেকে লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট করে নেয়। একই সঙ্গে খামারের পাড়ে লাগানো অর্ধশতাধিক ফলজ গাছ কেটে ফেলে। এ সময় প্রতিবাদ করলে খামারের শ্রমিকদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় আব্দুল হাইয়ের ছেলে জাহিদুল হক গত ২১ মার্চ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরও জাকারিয়া আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে গত ২৭ মার্চ সকালে জাহিদুল হকের মালিকানাধীন একই খামারের গরুর খামার থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তিনটি গরু নিয়ে যায় জাকারিয়া ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় জাহিদুল হক বাদী হয়ে গত শুক্রবার জাকারিয়া আহমদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পর কানাইঘাট থানা পুলিশ জাকারিয়াকে গ্রেফতার ও লুট হওয়া গরু উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এসআই দুর্গা কুমার দেব ও এএসআই রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
জাকারিয়ার গ্রেফতারের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে জাহিদুল হক বলেন, তার বাবা দুবাই প্রবাসী আব্দুল হাই এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষকে স্বাবলম্বী করতে হাওরে বড় পরিসরে মৎস্য খামার গড়ে তুলেছেন। কিন্তু জাকারিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাছ লুট, গাছ কেটে ফেলা ও খামারের ক্ষতি করে আসছিল।
জাকারিয়াকে গ্রেফতার করায় কানাইঘাট থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তার সহযোগীদেরও দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জাকারিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, জুয়া ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এক শিক্ষিকাকে প্রাণনাশের হুমকিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।
জাকারিয়ার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে।
কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জাকারিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার সহযোগীদের গ্রেফতার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জাকারিয়াকে আদালতে পাঠানো হবে বলেও তিনি জানান।



