পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিকে ঘিরে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় ঈদের প্রথম দুই দিনেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে। এতে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার টাকা।
উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের দিন দুপুর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার পর্যটক লাউয়াছড়ায় প্রবেশ করেন। এর মধ্যে প্রথম দিন এক হাজার ৫২ জন এবং দ্বিতীয় দিন প্রায় এক হাজার ৯০০ জন দর্শনার্থী টিকিট কেটে উদ্যানে প্রবেশ করেন। প্রথম দিনে টিকিট বিক্রি থেকে আয় প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় দিনে আয় দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ ছয় হাজার টাকা। সব মিলিয়ে দুই দিনে মোট দুই হাজার ৯৫২ জন দেশি-বিদেশি পর্যটক উদ্যানটি ভ্রমণ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন এবং উদ্যানে প্রবেশের অপেক্ষায় শত শত দর্শনার্থীর ভিড়। লাউয়াছড়া সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে পার্কিং করা রয়েছে প্রাইভেটকার, বাস, জিপ ও সিএনজিসহ অসংখ্য যানবাহন।
পর্যটকদের কাছে উদ্যানের চিরহরিৎ বন, উঁচু গাছপালা, সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য এবং বনের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া রেললাইন বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সাথে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে দর্শনার্থীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বন বিভাগের কর্মীদের। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বনের ভেতর ও প্রধান ফটকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকিট কালেক্টর শাহিন মিয়া বলেন, ‘অন্য সময়ের তুলনায় এবারের ঈদে পর্যটকদের উপস্থিতি অনেক বেশি। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পরিবেশ সংরক্ষণে বন বিভাগ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।’
শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের রেঞ্জার কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘ঈদের ছুটির বাকি দিনগুলোতেও পর্যটকদের এ প্রবাহ অব্যাহত থাকলে রাজস্ব আয় আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে এ ধরনের পর্যটক সমাগম স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং কমলগঞ্জকে সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরো পরিচিত করে তুলছে।



