মতবিনিময় সভা এনবিআর চেয়ারম্যান

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে যৌক্তিক করহার নির্ধারণ করা হবে

একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্য রাজস্ব সংগ্রহের চাপ থাকে। কিন্তু সবাইকে চাপে ফেলে আমরা রাজস্ব সংগ্রহ না করে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের জন্য করহার যৌক্তিক করা হবে। যারা ভ্যাট ও ট্যাক্স নিয়ে দ্বিধায় আছেন তাদেরকে উৎসাহিত করার জন্য সিস্টেম আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram City
মতবিনিময় সভা এনবিআর চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান
মতবিনিময় সভা এনবিআর চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান |নয়া দিগন্ত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের(এনবিআর) চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান বলেছেন, একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্য রাজস্ব সংগ্রহের চাপ থাকে। কিন্তু সবাইকে চাপে ফেলে আমরা রাজস্ব সংগ্রহ না করে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের জন্য করহার যৌক্তিক করা হবে। যারা ভ্যাট ও ট্যাক্স নিয়ে দ্বিধায় আছেন তাদেরকে উৎসাহিত করার জন্য সিস্টেম আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। যারা অগ্রিম কর বা অতিরিক্ত ভ্যাট কিংবা অগ্রিম আয়কর প্রদান করেন তা সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত রিফান্ডের জন্য সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, সরকার বন্ড ম্যানেজমেন্ট ট্যাক্স, ভ্যাট ও কাস্টমস ব্যবস্থাপনা কিভাবে আধুনিক ও পেপারলেস করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ করছে। এজন্য বর্তমান সরকার ট্যাক্স, ভ্যাট ও কাস্টমস ডিউটি দিতে যাতে কেউ কার্পন্য না করে সে জন্য নিয়মগুলোকে ডিরেগুলেট করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া নন-কমপ্লায়েন্স করদাতাদের ক্ষেত্রে ম্যানুয়েল পদ্ধতি বন্ধ, কাস্টমস এর ক্ষেত্রে ইচ্ছামাফিক কায়িক পরীক্ষা বন্ধ এবং বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত পণ্য পুনরায় রফতানির সাথে সমন্বয় হলে ব্যবসায়ীরা যাতে হয়রানীর শিকার না হয় সেজন্য বন্ড ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, করদাতারা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে সারাবছর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন সেই ব্যবস্থা নিচ্ছে এনবিআর। এছাড়া ব্যবসায়ীরা যাতে এনবিআর অফিসে ঘুরতে না হয় সেজন্য সবকিছু অটোমেশন করা হয়েছে। ফলে সিঙ্গেল উইন্ডোর মাধ্যমে সার্টিফিকেট অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে।

২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের প্রাক্কালে চট্টগ্রাম চেম্বারের সদস্য ও অত্র অঞ্চলের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ কনফারেন্স হলে এক প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

চেম্বার প্রশাসক মো: মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী ও ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, উইমেন চেম্বারের সভাপতি আবিদা মোস্তফা, এফবিসিসিআই’র প্রাক্তন পরিচালক মো: আমিরুল হক, চেম্বারের প্রাক্তন সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, প্রাক্তন পরিচালক ডা: মঈনুল ইসলাম মাহমুদ, নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ গ্রুপ’র সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, রাঙ্গামাটি চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ মামুন, সিঅ্যান্ডএফ অ্যা্সোসিয়েশন’র সভাপতি এস এম সাইফুল আলম, পার্ক শিপিং লাইন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী, বিজিএপিএমইএ’র ১ম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ চৌধুরী, সাহির ট্রেড’র সরোয়ার আলম খান ও টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নানসহ বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সভায় স্বাগত বক্তব্যে চেম্বার প্রশাসক মো: মোতাহার হোসেন বলেন, আমদানি পর্যায়ে করহার পুনর্বিন্যাস ও দেশীয় শিল্প সুরক্ষার জন্য নানাবিধ প্রণোদনার বিকল্প উপায় বের করতে হবে। ট্যাক্স সিস্টেমের সময়োপযোগী সংস্কারের মাধ্যমে ট্যাক্স জিডিপি অনুপাতও কাঙ্খিত মাত্রায় উন্নীত করতে হবে। চেম্বার প্রশাসক বর্তমানে মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনায় সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেন।

এক্ষেত্রে অধিকাংশ করদাতা ১ম ও ২য় ধাপের মধ্যবর্তী শ্রেণীর, তাই তাদের কথা বিবেচনায় রেখে ১ম ধাপে ৫%-৭.৫% এবং ২য় ধাপে ১০%-১২.৫% করার প্রস্তাব করেন। পরবর্তী ধাপগুলো যৌক্তিকহারে নির্ধারণ করার জন্যও এনবিআর এর প্রতি প্রস্তাব করেন। চেম্বার প্রশাসক বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব ইলেক্ট্রিক্যাল ভেহিক্যাল আমদানিতে শুল্ক সাশ্রয়সহ জ্বালানি উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন রিফাইনারী স্থাপন এবং বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারী করার অনুমতি প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যান্য বক্তারা চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যানার সংখ্যা বাড়ানো, কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানোর লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সকল সংস্থার ল্যাব আধুনিকায়ন করা, গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিগুলোর জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সোলার প্যানেল ও সোলার লিথিয়াম ব্যাটারি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো, আগাম করের ক্ষেত্রে দ্রুত রিফান্ড, অডিট সহজীকরণ, সর্বোচ্চ ভ্যাট হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসা, দেশীয় উৎপাদনমূখী শিল্পকে সুরক্ষা ও প্রণোদনা, চট্টগ্রাম কাস্টমস এর জনবল ও ল্যাব এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডাবল ট্যাক্সেশন কমানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ভ্যাট সংস্কার ও যৌক্তিক করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর, মো: আজিজুর রহমান, পান রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: একরামুল করিম চৌধুরী, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন’র সভাপতি আবদুস সালাম, কনফিডেন্স সিমেন্ট’র পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ, পিএইচপি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ পরিচালক মোহাম্মদ আলী হোসেন চৌধুরী (সোহাগ), লুব-রেফ’র এমডি মোহাম্মদ ইউসুফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।