গোয়ালন্দে চা বিক্রেতা ফারুক হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩

পারিবারিক কলহ, জীবদ্দশায় মাকে মারধরের অভিযোগ এবং ফারুকের টাকা-পয়সা ও সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বারেক শেখ তার ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী

Location :

Rajbari
গ্রেফতার তিন আসামি
গ্রেফতার তিন আসামি |নয়া দিগন্ত

গোয়ালন্দের নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে চা বিক্রেতা ফারুক শেখ (৪৫) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি যৌথ দল। সংস্থাটির দাবি, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী তারই আপন ছোট ভাই বারেক শেখ। তাকে সহায়তা করে মো: আলমগীর হোসেন ও রুবেল শেখ।

বড় ভাইকে বাবার সম্পত্তি না দেয়া এবং ফারুকের ব্যাংকের এডিআর হাতিয়ে নেবার আশায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় বারেক শেখ।

পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে খুনিরা জানায়, হত্যার জন্য চার মাস আগে থেকেই প্ল্যান করে দু’টি বড় বড় দা তৈরি করে ধার দিয়ে চকচকে করে রাখে তারা।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: শামসুল হক জানান, এ ঘটনায় হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের আপন ছোট ভাই বারেক শেখসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দু’টি রক্তমাখা ধারালো দা। গ্রেফতার তিন আসামিকেই স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ২টার মধ্যে গোয়ালন্দ পৌর এলাকার জামতলায় নিজ বসতবাড়ির শয়নকক্ষে ফারুক শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো: খালেক শেখ (৭০) গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা বিভিন্ন তথ্য এবং গোপন সূত্রের ভিত্তিতে নিহতের আপন ছোট ভাই বারেক শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহ, জীবদ্দশায় মাকে মারধরের অভিযোগ এবং ফারুকের টাকা-পয়সা ও সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বারেক শেখ তার ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৌলতদিয়া এলাকার সহকর্মী আলমগীর ও রুবেলকে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে নিয়োগ দেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২২ আগস্ট দুপুরে আলমগীর ও রুবেল বারেক শেখের বাড়িতে গেলে তিনি আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা দু’টি ধারালো দা তাদের হাতে তুলে দেন। পরে বারেক অন্যত্র চলে যান। এরপর আলমগীর ও রুবেল ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত ফারুক শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ।

পরে বারেক শেখের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গোয়ালন্দঘাট থানাধীন হোসেন মন্ডলপাড়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ড, দৌলতদিয়া এলাকার নিজ নিজ বাড়ি থেকে আলমগীর হোসেন ও রুবেল শেখকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ আরো জানায়, গ্রেফতার রুবেল ও আলমগীরের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের পাশের একটি ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দু’টি রক্তমাখা ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দু’টি রক্তমাখা ধারালো দা, রক্তমাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট, ব্যবহৃত মোবাইলফোন ও মাস্ক।