ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবি আল মাহমুদ স্মরণোৎসবের উদ্বোধন

বক্তারা বলেন, আল মাহমুদ বাংলা সাহিত্যের এমন এক শক্তিমান কবি, যিনি তার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাংলার মাটি, মানুষ, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছেন। সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্মভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনদিনব্যাপী স্মরণোৎসব শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্মরণোৎসবের উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ওবায়দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ, কবি আল মাহমুদ স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, কবি জয়দুল হোসেন, কবি ছানাউল্লাহ বাশার এবং নয়া দিগন্তের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। কবি আল মাহমুদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি মো. ইব্রাহিম সাদাতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন হোসাইন জিহাদ। অনুষ্ঠানে জেলার সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবিতাপ্রেমী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, আল মাহমুদ কেবল একজন কবি নন, তিনি বাংলা ভাষার মাটি, মানুষ, প্রেম, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য কণ্ঠস্বর। তার কবিতায় যেমন গ্রামীণ বাংলার সৌন্দর্য ধরা পড়েছে, তেমনি উঠে এসেছে মানুষের সংগ্রাম, স্বাধীনতার চেতনা, শেকড়ের গভীর টান এবং জাতিসত্তার স্বপ্ন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার সাহিত্য থেকে প্রেরণা খুঁজে পাবে এবং তার সৃষ্টিকর্ম বাংলা সাহিত্যকে দীর্ঘদিন সমৃদ্ধ করবে।

বক্তারা বলেন, আল মাহমুদ বাংলা সাহিত্যের এমন এক শক্তিমান কবি, যিনি তার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাংলার মাটি, মানুষ, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছেন। সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। নতুন প্রজন্মের কাছে তার সাহিত্য, দর্শন ও জীবনাদর্শ পৌঁছে দিতে এ ধরনের স্মরণোৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিবস শুক্রবার সকালে কবির রচিত কবিতা পাঠ এবং স্কুল-কলেজ পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে ‘গদ্য সাহিত্যে আল মাহমুদ’ এবং রাতে ‘কবিতায় আল মাহমুদ’ শীর্ষক দুটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেবেন।

সমাপনী দিনের (শনিবার) বিকেলে কবির রচিত কবিতা পাঠ ও স্কুল পর্যায়ের কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণের পর অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আব্দুল হাই সিকদারের হাতে ‘সোনালী কাবিন পদক-২০২৬’ তুলে দেয়া হবে। পরে অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।