চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পৈতৃক জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রোজিনা খাতুন (৩৫) নামের এক নারীকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে আপন বোন ও ভাগ্নের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত বোন সেলিনা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ভাগ্নে সিয়াম (২৬) পলাতক রয়েছে।
আহত রোজিনা খাতুন উপজেলার রায়পুর গ্রামের সালাউদ্দিনের স্ত্রী। অভিযুক্ত সেলিনা খাতুন একই গ্রামের ওমর ফারুকের স্ত্রী এবং সিয়াম তাঁর ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রায়পুর ইউনিয়নের বাজারপাড়ার বাসিন্দা মৃত হারুনুর রশিদ মৃত্যুর আগে সাড়ে ১০ শতক জমি রেখে যান। নিয়ম অনুযায়ী তার তিন মেয়ে সেলিনা, রোকসানা ও রোজিনার মধ্যে জমিটি সমানভাবে বণ্টন হয়ে প্রত্যেকে সাড়ে ৩ শতক করে পাওয়ার কথা।
তবে অভিযোগ উঠেছে, ভাগবাটোয়ারা সত্ত্বেও সেলিনা একা পুরো সম্পত্তি ক্ষমতার জোরে ভোগদখল করে আসছিলেন। সম্প্রতি রোজিনা ও তার অপর বোন রোকসানা নিজেদের প্রাপ্য অংশ দখলে নিতে গেলে সেলিনা ও তার ছেলে সিয়াম তাঁদের একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে রোজিনা খাতুন তার পৈতৃক সম্পত্তির হিসাব বুঝে নিতে গেলে সেলিনা ও তাঁর ছেলে সিয়াম লাঠিসোঁটা নিয়ে আকস্মিকভাবে তাঁর ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং বসতঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রোজিনাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, ‘রায়পুর গ্রামে মারধরের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে অভিযুক্ত সেলিনা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আসামি সিয়ামকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’



