বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যারা চাঁদাবাজি, ঘের ও জমি দখল, সন্ত্রাস ও লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তুলে দিলে সাধারণ মানুষ তো বটেই, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমালও নিরাপদ থাকবে না।’
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ফ্যাসিস্ট আর ক্ষমতায় ছিল না। তাহলে এরপর যারা চাঁদাবাজি করলো, ঘের দখল করলো, বাজারে বাদাম বিক্রেতার কাছ থেকেও চাঁদা তুললো তারা কোন দলের লোক?’
চাঁদা না দেয়ার কারণে মানুষকে পাথর মেরে হত্যার ঘটনাও ঘটে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এ ধরনের শক্তির হাতে ক্ষমতা গেলে কি কোনো মানুষের শান্তি নিশ্চিত হতে পারে?
এ সময় তার সাথে ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসেন, উপজেলা নায়েবে আমির গাজী সাইফুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান, জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, সরদার আবদুল ওয়াদুদ, উপজেলা হিন্দু কমিটির সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেব প্রসাদ মন্ডল, আটলিয়া ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা মতিয়ার রহমান, ইউনিয়ন সেক্রেটারি হাফেজ মঈন উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী গবেষণা সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, ডুমুরিয়া পশ্চিম ছাত্রশিবিরের সভাপতি হামিদুল হাসান লিমন, শোভনা ইউনিয়ন সভাপতি মোসলেম উদ্দিন, মাগুরখালী ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা আব্দুস সোবাহান, মাগুরখালী ইউনিয়ন সেক্রেটারি সোহরাব হোসেন, মাগুরখালী হিন্দু কমিটির সেক্রেটারি বিকানন্দ বৈরাগী, ইউনিয়ন আমির শেখ আবুল হোসেন, ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা মজিবুর রহমান, আটলিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন আলা, মাওলানা বাহারুল ইসলাম, মাওলানা বেলাল হোসেন, হাফেজ বেলাল হোসেন প্রমুখ।
বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া খর্ণিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারদহা কৃষ্ণ কুন্ডু, রাজু ও গপি কুন্ডুর বসতবাড়িতে যান জামায়াত সেক্রেটারি। এ সময় তাদের সার্বিক খোঁজ-খবর নেন এবং সান্ত্বনা দেন তিনি।
স্বাধীনতার ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘লাঙ্গল, নৌকা, ধানের শীষ সব প্রতীকের দলই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, এমনকি সামরিক শাসনও এসেছে। কিন্তু কোনো দলের কোনো নেতা বা সরকার প্রধান বুক চিতিয়ে বলতে পারেননি যে, তারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জুলুমমুক্ত শাসন দিয়েছেন। প্রত্যেক আমলেই এ দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।’
নিজের সংসদ সদস্য থাকার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর এমপি ছিলাম। তখন ডুমুরিয়া ছিল ভয়াবহ সন্ত্রাসকবলিত। সন্ধ্যার আগে মানুষ ঘরে ঢুকে পড়ত। প্রতিদিন লাশ, গুম, হাত-পা কাটা এই আতঙ্কে মানুষ রাত কাটাত।’
নির্বাচনের আগে দেয়া দুটি অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, একটি ছিল সন্ত্রাস দমন, অন্যটি ছিল শতভাগ স্বচ্ছ উন্নয়ন।
তিনি দাবি করেন, এমপি থাকাকালে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছেন এবং কোনো কাজের বিনিময়ে কারো কাছ থেকে এক টাকাও নেননি। এক কাপ চা-ও নয়।
‘উন্নয়ন কাজের পূর্ণ হিসাব ইউনিয়ন ও খাতভিত্তিকভাবে বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, রাস্তা, বিদ্যুৎ, টিউবওয়েল, শ্মশান সব কাজেই স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে,’ বলেন তিনি।
বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপট বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ‘আবারো দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় ফেরানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এমপি বানাবে একজনকে, তিনি থাকবেন ঢাকা বা লন্ডনে। আর এলাকায় তার সাগরেদরা চাঁদাবাজি, মাস্তানি, ঘের দখল চালাবে।
এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, আদালতে ১৩ বছরের সাজার কথাও তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার।
সন্ত্রাস দমনে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যৌথ বাহিনী গঠন করে বহু সন্ত্রাসীকে জেলে পাঠানো হয়েছে, কেউ পালিয়েছে, কেউ এলাকা ছেড়েছে।’ এ সময় কোনো নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের রক্ষায় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করার কথাও বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সাড়ে সাত বছর কারাবন্দী থাকার কারণে তিনি একাধিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, এমনকি ভোট দেয়ার সুযোগও পাননি।’ তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আসন্ন নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শেষে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিবেক দিয়ে বিচার করুন কে দুর্নীতিমুক্ত, কে মানুষের ক্ষতি করেনি, কে সন্ত্রাস দমন করেছে। চাঁদাবাজ ও দখলদারদের হাতে আর ক্ষমতা দেয়া যাবে না। ভোটের আমানত সৎ মানুষের হাতেই তুলে দিন।’



