রংপুরে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ক্যাম্পেইনে ভিপি সাদিক কায়েম

কার নির্দেশে সরকারি কর্মকতা-কর্মচারীদের হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে নিষেধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন তা নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ও হল ছাত্র সংসদ-ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
রংপুরে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ক্যাম্পেইনে ভিপি সাদিক কায়েম
রংপুরে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ক্যাম্পেইনে ভিপি সাদিক কায়েম |নয়া দিগন্ত

কার নির্দেশে সরকারি কর্মকতা-কর্মচারীদের হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে নিষেধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন তা নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ও হল ছাত্র সংসদ-ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশ দিয়ে বিএনপির প্রতিটি ক্যাম্পেইন ও প্রচারণা সামগ্রীতে ওপেনে হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচারণার আহ্বানও জানান সাদিক কায়েম।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুর মহানগরীর পার্কের মোড়ে শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ জোটের উদ্যোগে আয়োজিত গনভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন- রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবিব, রাকসু এজিএস সাব্বির হোসেন, ন্যাশনাল ডক্টর ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ডা: মোহাম্মদ হোসেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. ইলিয়াস প্রামাণিক, ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগর সভাপতি নুরুর হুদা, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সুমন সরকার প্রমুখ।

এসময় সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচন কমিশনার যারা আছেন, আমরা তাদের জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনারা নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন কিসের ভিত্তিতে হয়েছেন। জুলাইয়ে শহীদদের ওপর আপনারা আজকে নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন। আমরা দুদিন আগে নির্বাচন কমিশনের একটা প্রজ্ঞাপন দেখতে পেয়েছি। সেই প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন কমিশনার বলেছেন রাষ্ট্রের পক্ষে যারা কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। তারা রাষ্ট্রের পক্ষে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করতে পারবে না। আমরা বলতে চাই, এই ধরণের সুশীলগিড়ি এই স্বাধীন বাংলাদেশে চলবে না। আপনারা কার নির্দেশে এই ধরণের নির্দেশনা দিচ্ছেন। সেটা আমাদেরকে পরিস্কার করতে হবে।

সাদিক কায়েম বলেন, ‘এখনও রাষ্ট্রের মধ্যে ফ্যাসিবাদী কাঠামো রয়ে গেছে। এখনো দিল্লির দালালরা এই স্বাধীন বাংলাদেশে বসে ষড়যন্ত্র করছে। তারা হাসিনা সেই কাঠামো আবার রেখে দিতে চায়। আমরা বেঁচে থাকে সেটা হতে দিবো না। সুতরাং নির্বাচন কমিশনকে বলবো অন্তর্বর্তী সরকারকে বলবো আপনারা যে অবস্থান নিয়েছেন সেটাকে পরিবর্তন করতে হবে। সকল নাগরিকের মাঝে রাষ্ট্রের উদ্যোগে এই গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করতে হবে। কারণ এই হ্যা ভোটে রয়েছে জুলাই শহীদদের আকাঙ্খা আলোকে , আবু সাঈদের আকাঙ্খার আলোকে নতুন বাংলাদেশে বিনির্মান হবে ইনশাআল্লাহ।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমদের খারাপ লাগে। গত ১৬ বছর যারা মজলুম ছিলেন। যারা আমাদের সাথে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করেছেন্ আজকে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী আমরা দেখতে পাচ্ছি গণভোটের পক্ষে তারা হ্যাঁ জোড় গলায় বলতে ভয় পাচ্ছে। অনেক বলার পরে তাদের মহান নেতা আমাদের বড় ভাই, তিনি আমার ক্যাম্পাসের বড় ভাই। তিনি বুকে পাথর চাপা কস্ট নিয়ে বললেন হ্যাঁ এর পক্ষে আপনাদের এই আবু সাঈদের শহরে এসে।কিন্তু তার তৃণমূলে যখন দেখতে পাই, তারা ইনিয়ে বিনিয়ে না এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সুতরাং এই ধরণের ডাবল স্ট্যান্ডগিড়ি চলবে না। সব জায়গায় হ্যাঁ এর পক্ষে বলতে হবে।

তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করেন সাদিক কায়েম আরো বলেন, ‘আমরা আপনার শুভাকাঙ্খী। আপনার অবস্থান আপনি পরিষ্কার করুণ। আপনাদের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনগুলোতে বড় বড় স্টেজ করেন। লাখ লাখ লিফলেট করতেছেন। সেই লিফলেটের কোনো কোণাতেই আমরা হ্যাঁ ভোটের কোনো স্লোগান আমরা দেখতে পাই না। আমরা বলতে চাই। জুলাইকে ধারণ করেন। নতুন এই বাংলাদেশে যদি রাজনীতি করতে হয়। চারকোটি তরুণকে যদি ধারণ করতে হয়। তাহলে অবশ্যই গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। হ্যাঁ মানে হলো বাংলাদেশ। নতুন বাংলাদেশে গণভোটে হ্যা এর পক্ষে আজকে সকল জনতা, সকল নাগরিকরা তারা অবস্থান নিয়েছে। আপনারা ভুল রাজনীতি করছেন। আমরা অনুরোধ করবো। আপনারা এই ভুল রাজনীতি কইরেন না। এখনও সময় আছে। নিজেদেরকে শোধরান। অনেক দেরিতে হলেও আপনারা হ্যাঁ এর পক্ষে বলেছেন। আমরা আশা করবো প্রতিটি ক্যাস্পেইনে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় নির্দেশনা দিবেন। প্রত্যেকটি নেতাকর্মী যেন হ্যাঁ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করে। হ্যাঁ বলতে কিসের ভয়। বুক ফুলিয়ে বলবেন হ্যাঁ। আবু সাঈদের হ্যাঁ, শহীদ ওয়াসিমের হ্যাঁ। মুগ্ধের হ্যাঁ। নতুন বাংলাদের হ্যাঁ।’

সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাইয়ের মাধ্যমে যারা আযাদী পেয়েছে। যারা গত ১৬ বছরে মজলুম ছিল আজকে তারা আযাদী পেয়েছে তাদের এই হ্যাঁ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করার কথা ছিল। জুলাইকে ধারণ করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা তাদের কর্মকাণ্ডে হ্যাঁ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করা দেখতে পাই না। তারা সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামোতে ফিরে যেতে চায়। তারা সেই পরিবারতন্ত্র রেখে দিতে চায়। এই স্বাধীন বাংলাদেশে পরিবারতন্ত্র চলবে না। দুই মেয়াদের বেশী কেউ প্রধানমন্ত্রী থেকে কেউ যদি আবার ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে চায় সেই পথ আমরা বন্ধ করে দিবো।’

সাদিক কায়েম বলেন, ‘এই স্বাধীন বাংলাদেশে আমার শ্রমিকের যে টাকায়, রিকশা চালকের টাকায় আমার এই বাংলাদেশ পরিচালিত হয়। তাদের সন্তানরা যদি যোগ্য হয় তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর জন্য আমাদের রাস্তা তৈরি করে দিতে হবে। সুতরাং সেই পরিবারতন্ত্রের মাধ্যমে আমরা বিগত ৫৪ বছর বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা দেখেছি সেই পরিবারতন্ত্রে রাজার ছেলে রাজা হবে সেটা চলবে না। এখন বাংলাদেশ হবে মেধার ভিত্তিতে যোগ্যতার ভিত্তিতে। যারা জনগণের অধিকার জনগণের হাতে তুলে দিবে, যারা কথা এবং কাজের মধ্যে মিল রাখবে তাদেরকেই আমরা নেতা বানাবো। সেটার জন্য আমরা গণভোটে হ্যাঁ কে বিজয়ী করতে হবে।

সাদিক কায়েম বলেন, ‘শহীদ আবু সাইদের আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করার জন্য, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করার জন্য আমাদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কে জয়যুক্ত করতে হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে হলো ইনসাফ, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে হলো আযাদী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে হলো ২৮ অক্টোবর লগী বৈঠা দিয়ে আমাদের যে ভাইদেরকে হত্যা করেছে তার বিচার করা। এই ‘হ্যাঁ’ মানে হলো শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচার। এই ‘হ্যাঁ’ মানে হলো ৫ মে শাপলা চত্ত্বরে যে গণহত্যা হয়েছে সেই গণহত্যার বিচার। গণহত্যার যারা সহযোগি ছিল এই স্বাধীন বাংলায় তাদের বিচার করা। আর কখনো যেন আলেম ওলামাদের উপর হামলা নাহয়, হত্যা না হয়। আর কখনো যেন বাংলাদেশে দেশপ্রেমিক নাগরিকদেরকে বিচারিক হত্যাকান্ডের মাধ্যমে হত্যা করা না হয়, তার পথ বন্ধ করা।’

সাদিক কায়েম বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ মানে হলো যে অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে গত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা এই বাংলাদেশে জুলুমতন্ত্র এবং মাফিয়া তন্ত্র কায়েম করেছে তার পথ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া। এই হ্যাঁ মানে হলো বিগত ১৬ বছরে যেই কালচারাল ফ্যাসিস্ট চক্র খুনি হাসিনার অবৈধ শাসনকে যারা বৈধতা দিয়েছিল এবং যারা আমাদেরকে হত্যাযজ্ঞ করেছিল তাদেরকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা। এই ‘হ্যাঁ’ মানে হলো যারা খুনি হাসিনার সহযোগী ছিল, যারা খুনি হাসিনা টিকিয়ে রাখতে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে তাকে সাপোর্ট দিয়েছিল তাদেরকে এই স্বাধীন বাংলাদেশে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা।’

সাদিক কায়েম বলেন, ‘গণভোটে এই হ্যাঁ মানেই হলো খুনি হাসিনার অবৈধ নির্বাচনকে যারা বৈধতা দিয়েছে ওই জতীয় পার্টির সন্ত্রাসীদেরকে এই স্বাধীন বাংলাদেশে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা। এই হ্যাঁ মানে হলো দিল্লির দালাল যারা আছে, যারা খুনি হাসিনার ১৭ বছর দালালি করেছে, যারা এই বাংলাদেশকে ভারতের সাবলেট বানিয়েছেন, যারা এই কুড়িগ্রামে আমার বোন ফেলানীকে হত্যা করেছে, যারা বাংলাদেশের অবারিত সম্ভাবনাকে ধ্বংস করেছে,যারা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে, বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে, আমাদের ক্যাম্পাসগুলোকে গণরুম গেস্টরুম কালচারে পরিণত করে শিক্ষার্থীদের অবারিত সম্ভাবনাকে নষ্ট করেছে ,তাদেরকে এই বাংলাদেশে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা। হ্যাঁ ভোট মানে ফ্যাসিবাদী যে কাঠামো সেই কাঠামোকে চিরতরে বন্ধ করে দেয়া। এই হ্যাঁ মানে হলো স্বাধীন বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মান করা এই হ্যাঁ মানে হলো আমাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে, চাকরির ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা, এই হ্যাঁ মানে হলো, হাসিনার পুলিশ, র‌্যাব ও খুনি জেনারেলদের বিচার নিশ্চিত করা।’

সাদিক কায়েম বলেন, ‘আজকে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের আযাদী পেয়েছে, বাংলাদেশের মানুষেরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে। আজকে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা শুরু হয়েছে। আজকে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী আমলে যারা আয়না ঘরে বন্ধি ছিল তারা মুক্তি পেয়েছে। আজকে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আমাদের যে ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে। সেই ঐতিহাসিক সুযোগের কথা আমরা ভুলে যাচ্ছি। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আজকে আমাদের যে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণ করার কথা সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলুন। রাজনৈতিক দলগুলো ভুলে যাচ্ছে সুতরাং আমরা আবু সাইদের উত্তরসূরীরা বেঁচে থাকতে যারা জুলাই শহীদদের সাথে প্রতারণা করবে, যারা আবু সাইদের রক্তের সাথে প্রতারণা করবে,যারা আব্দুল্লাহ তাহীর এর রক্তের সাথে বেইমানি করবে, তাদেরকে আমরা বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দিবোনা।’

সাদিক কায়েম বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ কে বিজয়ী করতে হবে। এই হ্যাঁ কে বিজয়ী করার জন্য আমাদের প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায়, প্রতিটি মহল্লায় মহল্লায় আমাদেরকে ছড়িয়ে যেতে হবে এবং এই হ্যাঁ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করা।

বক্তব্যের শুরুতেই সদিক কায়েম শ্লোগান তোলেন, ১২ তারিখ সারাদিন হ্যাঁ ভোটে সীল দিন, হ্যা মানে আযাদী না মানে গোলামী হ্যা মানে হাদী, না মানে মোদি গোলামী না আযাদী, আযাদী আযাদী আপোষ না সংগ্রাম? সংগ্রাম-সংগ্রাম, আবু সাইদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ, ইনকিলাব ইনকিলাব জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ। ছাড়াও গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে অবস্থান নেয়ায় জামায়াত, এনসিপি সহ ১১ দলীয় জোকে সাধুবাদ জানান। এর আগে নীলফামারীর জলঢাকা, কিশোরগঞ্জে হ্যা ভোটের ক্যাম্পে্ইনে অংশ নেন।